১০ বছরে সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছে ২৯৪ বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১১ জুলাই ২০১৯, ৪:১৪ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 4 বার
১০ বছরে সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছে ২৯৪ বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১০ বছরে সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছে ২৯৪ বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপি’র মো. হারুনুর রশীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে গত ১০ বছরে অর্থাৎ ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মোট ২৯৪ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ জন ও ২০১৮ সালে ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তে ২০১৭ সালে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার সংখ্যা ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে হত্যার সংখ্যা তিন, যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে।

এ সময় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘বর্ডার সার্ভিল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। সদস্য মমতাজ বেগমের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্তসহ মোট ৩২৮ কিলোমিটার স্পর্শকাতর সীমান্তে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) যৌথ প্রচেষ্টায় যশোরের ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার সীমান্ত ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সীমান্তেও ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া ও কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকায় অধিকতর নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরা ও শক্তিশালী সার্চ লাইট স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চলে ২টি ভাসমান বিওপিসহ মোট ১৪১টি বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। নতুন বিওপি স্থাপনের ফলে ৫৩৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে ৪০২ কিলোমিটার ইতোমধ্যে সুরক্ষিত হয়েছে।’

এছাড়াও বিজিবি’র সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩৮ জন নারী সৈনিকসহ মোট ২৬ হাজার ৬১১ জন সৈনিক ও অসামরিক এই বাহিনীতে নিয়োগ এবং ৩৬ হাজার ১১০ জন সদস্যকে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি’র জনবল ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক সরকার ইতিমধ্যে নতুন ১৫ হাজার জনবলের প্রাধিকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =