রাজপথেই সমাধান দেখছে ঐক্যফ্রন্ট

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৮ নভেম্বর ২০১৮, ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 12 বার
রাজপথেই সমাধান দেখছে ঐক্যফ্রন্ট রাজপথেই সমাধান দেখছে ঐক্যফ্রন্ট

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টানা দু’দফায় সংলাপে কার্যত হতাশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তাদের প্রধান দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীনরা কোনো সাড়া দেয়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনসহ সাত দফার তেমন কিছুই মানেনি শাসক দল আওয়ামী লীগ।

কেবলমাত্র সভা-সমাবেশে বাধা না দেয়া এবং গণগ্রেফতারও হবে না- এ দুটি মৌখিক প্রতিশ্রুতিই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রাপ্তি। এ অবস্থায় নতুন এ জোটের নেতারা দাবি আদায়ে রাজপথের আন্দোলনকেই ‘শেষ ভরসা’ মনে করছেন। মাঠেই ফয়সালা চান তারা। কৌশল হিসেবে আলোচনার পথও খোলা রাখবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গত ১ নভেম্বর রাতে গণভবনে প্রথম দফায় সংলাপে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জোটের শীর্ষ নেতা, বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার সংলাপ শেষে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। তিনি অনেক কথাই বলেছেন।

কিন্তু আমরা তার কথায় কাক্সিক্ষত কোনো সমাধান পাইনি।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সময় বলেন, ‘আমরা অসন্তুষ্ট’।

এ অবস্থায় আবারও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বুধবার বেলা ১১টায় দ্বিতীয় দফায় ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ছোট পরিসরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসেন তারা। এতে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এতে সংসদ ভেঙে দেয়া ছাড়াও নির্বাচন পেছানো এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বুধবার  বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দু’দফায় সংলাপে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের কথা বলেছি। তিনি মানবেন কি মানবেন না তার বিষয়। আমরা আমাদের কথা বলেছি। দেশের মানুষ ভোট দিতে চায়। দিতে না পারলে মানুষই রুখে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাবি আদায়ে রাজপথে নামব, জনগণের ঐক্য গড়ে তুলতে কাজ করব। এর বাইরে তো আমাদের আর কিছু করার নেই।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘আন্দোলনই এখন দাবি আদায়ে আমাদের একমাত্র ভরসা। আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

জানতে চাইলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব  বলেন, ‘আমরা এবার চূড়ান্ত আন্দোলনে নামব। আমাদের দাবি উপেক্ষা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে তা মানব না। সরকার চাইলে যা খুশি করবে তা হতে দেয়া হবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কিছু দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে শাসক দলের নেতারা বলেছেন, এগুলো অসাংবিধানিক। তবে সভা-সমাবেশ করতে বাধা না দেয়া এবং গণগ্রেফতার না করার বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি আইনি বিষয় বলে মন্তব্য করেন সংলাপে অংশ নেয়া শাসক দলের নেতারা।

নির্বাচন পেছানো সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়ে দেন। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার সম্পর্কে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এটা হলে অনির্বাচিত সরকারকেই উৎসাহিত করবে। ঘরের মধ্যে সাপ ঢুকে পড়বে। এতে করে বিপদ আরও বাড়বে। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে।’ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং তফসিল পেছানোর দাবিও সরাসরি নাকচ করে দেন তারা।

নেতারা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। নিয়ম মেনে তফসিল ঘোষণা করবে। তাদের সরকার সংবিধান মেনে নির্বাচন কমিশনকে সবরকম সহায়তা করবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সংলাপ শেষে  বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ফেব্র“য়ারি অথবা মার্চ পর্যন্ত নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেছেন যথসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দিয়েছেন। এটি সংবিধানসম্মত না।

বর্তমান সংবিধানে এই বিধানও নেই। আর দেশে অনেক দল। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ পাওয়াও কঠিন। তাই প্রধানমন্ত্রী তাদের এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। আমরাও বলেছি এটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না। তাই মেনে নেয়া সম্ভব না।’ তিনি বলেন, ‘তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের যে দাবি জানিয়েছেন তাও গ্রহণযোগ্য না বলে আমরা মেনে নেইনি। আমরা তাদের বলেছি, সভা-সমাবেশে বাধা দেয়া হবে না। অযথা গ্রেফতার বা হয়রানি করাও হবে না।’

দ্বিতীয় দফায়ও নিজেদের দাবি-দাওয়া ইস্যুতে ফলপ্রসূ সুরাহা না হওয়ায় কার্যত হতাশ হয়েই গণভবন থেকে বের হন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এরপর তারা একে একে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় জড়ো হন। পরবর্তী করণীয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নেতারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে আবারও তারা বৈঠকে বসেন।

সংলাপের দরজা খোলা রাখার পাশাপাশি দাবি আদায়ে আন্দোলনই শেষ ভরসা বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মত দেন। এ সময় রাজশাহীর উদ্দেশে আজকের রোডমার্চ স্থগিত করেন তারা। তবে পরদিন শুক্রবার সেখানে জনসভা আয়োজনের কর্মসূচি বহাল রাখেন। সভা-সমাবেশ ছাড়াও নতুন করে লংমার্চ, রোডমার্চ, মানববন্ধন, গণঅনশন, গণসংযোগ প্রভৃতি কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা বলেন, সরকার তাদের কোনো দাবি মানেনি। দুই-একটি বিষয়ে আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্তি নেই। তাদের মতে, সংলাপ পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও কৌশলগত কারণেই তারা এটিকে ব্যর্থ বলতে নারাজ। ব্যর্থ বললেই সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − five =