যে কারণে ভারতের বিপক্ষে আগের ৬ ম্যাচে হেরেছে পাকিস্তান

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৬ জুন ২০১৯, ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 7 বার
যে কারণে ভারতের বিপক্ষে আগের ৬ ম্যাচে হেরেছে পাকিস্তান যে কারণে ভারতের বিপক্ষে আগের ৬ ম্যাচে হেরেছে পাকিস্তান

ক্রিকেটের স্নায়ুযুদ্ধ বা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বলতে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথকেই বোঝায়। দেশ দুটির সীমান্ত বৈরিতার প্রভাব উপচে পড়ে ২২ গজের মাঠে।

বিশ্বকাপে পাক-ভারত ম্যাচের আগেই দুই দেশের সমর্থকদের চাওয়া-পাওয়া পাল্টে যায়। তখন দাবি থাকে একটিই- বিশ্বকাপ গোল্লায় যাক আপাতত, এ ম্যাচে জয় চাই-ই চাই।

আজ বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টায় সেই বহুল প্রতীক্ষিত সে লড়াইয়ে প্রস্তুত ম্যানচেস্টার ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

ক্রিকেট অনিশ্চিত খেলা হলেও আজ ভারতকেই এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এর আগে বিশ্বকাপ মঞ্চে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছিল চাঁদ-তারা ও ত্রিরঙ্গা।

আর এই ছয়বারই নাস্তানাবুদ হয়ে ভারতের কাছে হেরেছে পাকিস্তান।

অথচ বিশ্বকাপ ছাড়া অন্যান্য ম্যাচের পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের জয়ের পাল্লায়ই ভারী। দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৩১ ওয়ানডে ম্যাচে ৭৩টি জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

বিশ্বকাপ মহারণে কেন ভারতের কাছে পাকিস্তান হেরে যায় সে বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ দিয়েছে পাক গণমাধ্যম।

আসুন দেখে নেয়া যাক তাদের বিশ্লেষণ-

ইতিহাস বলছে- বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলা ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে টস জিতেছিল পাকিস্তান। আর ছয়টির মধ্যে পাঁচটিতেই পরে ব্যাট করে হারে তারা।

ভারতের তুলে দেয়া টার্গেট কখনই পার করতে পারেনি পাকিস্তান।

* ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত। প্রথম ইনিংসে পাক বোলারের তোপের মুখে ২১৬ রান করে তারা। ম্যাচে শচীন টেন্ডুলকারের ৫৪ রানই হয় ভারতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ।

পাক সমর্থকরা ধরেই নেয় যে, এই লক্ষ্য অনায়াসে পার করে দেবেন জাভেদ মিয়াঁদাদরা। অথচ ২১৭ রান তাড়া করতে নেমে ১৭৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।

পাক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণ ৫০ ওভার খেলতে পারলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে। এমন পরিকল্পনা নিয়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলতে থাকেন পাক ব্যাটসম্যান।

সে ম্যাচে ১১০ বল খেলে ৩৬ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ৪০ রান করেন জাভেদ মিয়াঁদাদের মতো বড় ব্যাটসম্যান। আর তাতেই কপাল পুড়ে পাকিস্তানের। বিশ্লেষকদের মতে, এমন টেস্ট স্টাইল খেলাই হারের মূল কারণ।

* ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে আগের মতো ভুল করেনি পাকিস্তান। তবে সে ম্যাচেও টস জিতে আগে ব্যাট করে ২৮৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় ভারত। দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করে পাকিস্তান।

আমির সোহেল-সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটিং তাণ্ডব দেখেন ক্রিকেটবিশ্ব। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ভারতীয় পেসার ভেঙ্কাটেশ প্রসাদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে আমির সোহেলের স্টাম্প উড়ে যায়। সেটিই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

আমির আউট হওয়ার পর আর কোনো ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে পারেননি। ২৫০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। শুধু ওপেনিং ব্যাটসম্যাননির্ভর দল হয়ে যাওয়ায় হারতে হয় পাকিস্তানকে এমনটিই মনে করছেন পাক বিশ্লেষকরা।

* ১৯৯৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পাক-ভারত ম্যাচটি যেন ‘৯২-এর ম্যাচটির অনুকরণ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাহুল দ্রাবিড়ের ৬১ ও অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনের ৫৯ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ২২৭ রান করে ভারত। আর কোনো ব্যাটসম্যানকে বড় সংগ্রহ করতে দেননি পাক বোলাররা।

কিন্তু সেই বিশ্বকাপেও পেসার ভেঙ্কাটেশ প্রসাদের কাছে ধরাশায়ী হয় পাকিস্তান। তার ২৭ রানে ৫ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৭ রানে হারতে হয় পাকিস্তানকে। পাক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯২ বিশ্বকাপের মতো এবারও রক্ষণাত্মক খেলাটাই ছিল পাকিস্তানের পরাজয়ের মূল কারণ।

* ২০০৩ বিশ্বকাপেই টসে জিতেছিল পাকিস্তান। এর আগের স্মৃতি মাথায় রেখেই ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুটাও চমৎকার হয় তাদের।

ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের ১০১ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২৭৩ রানের বড় স্কোর করে পাকিস্তান।

কিন্তু সেই ম্যাচে শচীন টেন্ডুলকার, যুবরাজ সিংয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টার্গেট পূরণ করে ফেলে ভারত। সে ম্যাচে শোয়েব আখতার, ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসদের কোনো পাত্তাই দেননি শচীন ও শেবাগরা।

তাই সে ম্যাচে পাক বোলারদের ব্যর্থতাকে ম্যাচ হারার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।

* ২০১১ বিশ্বকাপে আবার টস ভাগ্য ভারতের দিকে চলে যায়। ব্যাটিংয়ে নেমে শচীনের ৮৫ রানের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ২৬০ করে ভারত। এদিন জ্বলে ওঠেন পাক বোলার ওয়াহাব রিয়াজ। ৪৬ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।

কিন্তু এ রানই তাড়া করতে ব্যর্থ হন পাক ব্যাটসম্যানরা। মিসবাহ-উল হকের ৫৬ রানই ছিল পাক শিবিরের বড় ইনিংস। ২৯ রানে হারে যায় দলটি।

বিশ্লেষকদের মতে, সে ম্যাচে ভারতের রান আরও কম হতে পারত। অত্যন্ত বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের মহড়ায় শামিল হয়েছিলেন পাক ফিল্ডাররা। অনেক ক্যাচ মিসের কারণেই ম্যাচটি হাত থেকে ফসকে যায় পাকিস্তানের।

* ২০১৫ বিশ্বকাপে আগে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলির ১০৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ৩০০ রানের বড় সংগ্রহ করে ভারত। বোলিংয়েও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় ভারত। এত রান তাড়া করতে নেমে ২২৪ রানেই মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস।

এই হার বিষয়ে পাক বিশ্লেষকদের মতে, তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল দল নিয়ে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিল পাকিস্তান। এটিই ছিল হারের মূল কারণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × two =