হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে…

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৮ নভেম্বর ২০১৮, ৬:৩২ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 39 বার
হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে… হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে...

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, নির্মাতা ও গীতিকার হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ১৩ নভেম্বর। নানা আয়োজনে এই কলম জাদুকরের জন্মদিন পালিত হবে এবারও। গুণী এই ব্যক্তিত্বের স্মরণে তার কর্মযজ্ঞ নিয়ে লিখেছেন- সোহেল আহসান

বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। গীতিকার, নাট্যকার, নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত।

গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে রাত জেগে ‘ভূতের সন্ধান’ লেখায় এবং জীবনযাপনে আপাদমস্তক বাঙালির মনের দরজায় টোকা মারা মানুষটিই সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। কখনও বেশ রহস্যময়, আবার কখনও চিরাচরিত সাধাসিধে বাঙালি।

মিসির আলী, হিমু ও শুভ্রদের বসবাস যেন তাকে ঘিরেই। দুই বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকটির লেখা পাঠককে মোহাবিষ্ট করে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এই কথার জাদুকরের জন্মদিন ১৩ নভেম্বর। গল্প উপন্যাস থেকে শুরু করে নাটক, সিনেমা, গান- তার সব সৃষ্টিই মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আকর্ষণ করে। তাকে নিয়ে পাঠক-শ্রোতা দর্শকের স্মৃতির জানালার পর্দা বিষণ্ণভাবে উড়তে থাকে।

বড় অসময়ে চলে যাওয়া এই মানুষটি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মেছিলেন। ছোটবেলায় বাবার নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছিল নাম। পরে তিনি নিজেই তার নাম পরিবর্তন করেন।

অতুলনীয় জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি ঢাকার অদূরে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে নীরব জীবনযাপন করতেন। মাঝে মাঝে ঢাকায় আসতেন প্রয়োজনীয় কাজ সারতে। তার বেশ কিছু বই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

আর কিছু বই আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। লেখালেখি এবং নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি সাহিত্যিক থেকে জনপ্রিয় নাট্যকার, পরিচালক ও চলচ্চিত্রকারের তকমা গায়ে মাখান।

হিমু, মিসির আলী, শুভ্র তার সৃষ্ট সাহিত্যিক চরিত্র। এগুলো অসম্ভব জনপ্রিয় এখনও। মধ্যবিত্তের জীবনের রোজনামচা নিয়ে তিনি যেমন সাহিত্য রচনা করেছেন, তেমন নির্মাণ করেছেন নাটক ও চলচ্চিত্র। তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ হয় ১৯৭২ সালে। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে।

আর তার শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ ২০১২ সালে এবং শেষ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ মুক্তি পায় ২০১২ সালে। তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্মই ভক্তদের বিনোদিত করেছে। ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, কুটু মিয়া, মধ্যাহ্ন, কৃষ্ণপক্ষ, গৌরীপুর জংশন, ময়ূরাক্ষী, হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম, সে আসে ধীরে, অন্যভুবন, আমিই মিসির আলীসহ অনেক পাঠকপ্রিয় সাহিত্য রচনা করেছেন তিনি।

এসব দিনরাত্রী, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, অয়োময়সহ বহু নাটক নির্মাণ করেও আনন্দ দিয়েছেন দর্শকদের। কথার জাদুকরখ্যাত হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এক ভিন্ন রকমের কথা বলার ধরন। ‘আপনার কি বিবাহ হয়েছে, অবশ্যই যাব কেন যাব না, কী আচানক কারবার, আপনাকে চড় দেইসহ নানা ধরনের সংলাপ তার লেখায় ব্যবহার বা চিত্রে উপস্থাপন করেছেন।

বহুমাত্রিক সৃষ্টির জন্য নানা পুরস্কারে ভূষিত হন হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি লেখক শিবির পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক, কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক লাভ করেন।

১৯৯২ সালের শঙ্খনীল কারাগার চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ভাষা ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক অর্জন করেন।

একই বছরের ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তার উপন্যাস অবলম্বনে তৌকীর আহমেদ নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

তার উপন্যাস অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম নির্মিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’ (২০১৫) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মরণোত্তর শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার লাভ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 7 =


আরও পড়ুন