বাণিজ্য মেলা, এখনও চলছে স্টল নির্মাণ কাজ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 15 বার
বাণিজ্য মেলা, এখনও চলছে স্টল নির্মাণ কাজ বাণিজ্য মেলা, এখনও চলছে স্টল নির্মাণ কাজ

বাণিজ্য মেলা এখনও জমেনি। ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম। মেলায় প্রথম দু’দিন লোকসমাগম কম হলেও শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীকে ঘুরতে দেখা গেছে। তবে কেনাকাটা কম হয়েছে। চার দিন পার হলেও এখনও মেলা মাঠে চলছে স্টল নির্মাণকাজ।

মেলায় প্রবেশ করলেই কানে আসে হাতুড়ি-পেরেকের ঠক ঠক আওয়াজ। ভিআইপি গেট থেকে সার্ভিস গেট পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় চলছে স্টল নির্মাণকাজ। ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিম দিকে একটু এগোলেই চোখে পড়বে থাইল্যান্ড, চীন ও ভারতীয় পণ্যের প্যাভিলিয়ন। সেখানে এখনও স্টল গোছানোর কাজ শেষ হয়নি। এর দক্ষিণ দিকেও সারি সারি বেশ কয়েকটি স্টলের কাজ করতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি অপ্রস্তুত স্টল দেখা গেছে সার্ভিস গেটের পাশে বা পশ্চিম দিকে। ওই অংশে বেশিরভাগ স্টলের কাজ শেষ হয়নি। তবে স্টল নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকলেও বেশির ভাগ স্টলে প্রথম দিন থেকে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্টলে সবেমাত্র পণ্য উঠানো শুরু হয়েছে। অবশ্য দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো আগেভাগেই স্টল-প্যাভিলিয়ন গুছিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে।

দেশীয় ইলেকট্রনিকস সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আকর্ষণীয়ভাবে প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে। এসব প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ও বেশি। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা দেশীয় ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরে দেখছেন। নতুন কোনো মডেল বা ডিজাইনের টিভি-ফ্রিজ বাজারে এসেছে কিনা, দাম কত, ছাড় ও কী গিফট দেয়া হচ্ছে- এসবের খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে। তরুণী-নারীদের বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে কসমেটিকস ও ক্রোকারিজ আইটেমের দরদাম করতে দেখা গেছে।

যমুনা ইলেকট্রনিকস প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ সত্যজিৎ রায় বলেন, প্রথম শুক্রবার হিসেবে মেলায় লোকসমাগম ভালো ছিল। সকালে কম থাকলেও বিকালের পর ভিড় বাড়তে থাকে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিবারের মতো এবারও যমুনা ইলেকট্রনিকস বাণিজ্য মেলায় বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। সব ধরনের ইলেকট্রনিকস পণ্যে ৫-২২ শতাংশ ডিসকাউন্ট থাকছে। এছাড়া প্রতি ১০ হাজার টাকার কেনাকাটায় এক হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার দেয়া হচ্ছে। এ ভাউচার ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পণ্য কিনলে ছাড় পাবেন ক্রেতারা। যমুনা ব্রান্ডের মোটরসাইকেল কিনলে ক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় ইলেকট্রনিকস ব্রান্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র যমুনা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আধুনিক ডিজাইনের সামগ্রী উৎপাদন করে। এ কারণে যমুনার প্রতিটি পণ্য ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ আস্থা ধরে রাখতে নিরলসভাবে দক্ষ ডিজাইনার ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এবারও মেলায় ক্রেতাদের জন্য বাহারি ডিজাইন ও রঙের ফ্রিজ আনা হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মেলায় মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ রাখা হয়েছে। আছে রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহার সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এছাড়াও তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল-প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

এবার বাণিজ্য মেলায় ৬০৫টি বিভিন্ন শ্রেণীর প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ১৯টি সাধারণ প্যাভিলিয়ন, ২৬টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন, ছয়টি সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন, ৩২টি সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, ৬৮টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৭টি বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল, ২৯৫টি সাধারণ স্টল, ৩০টি খাবারের দোকান রয়েছে। মেলা ৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সব বয়সীরা টিকিটের বিনিময়ে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মেলায় প্রবেশ টিকিটের দাম ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা রাখা হয়েছে। অনলাইনেও টিকিট কেনা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 13 =


আরও পড়ুন