‘দুর্নীতি রুখতে আইনের পাশাপাশি সামাজিক দণ্ডও প্রয়োজন’

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২:৪৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 12 বার
‘দুর্নীতি রুখতে আইনের পাশাপাশি সামাজিক দণ্ডও প্রয়োজন’ ‘দুর্নীতি রুখতে আইনের পাশাপাশি সামাজিক দণ্ডও প্রয়োজন’

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, দুর্নীতি কমাতে আইন যথেষ্ট নয়। দুর্নীতি রুখতে আইনের পাশাপাশি সামাজিক দণ্ডও প্রয়োজন। এখনও আমরা সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের বর্জন করতে পারিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বর্জন করা সম্ভব হবে না ততক্ষণ দুর্নীতি মুক্ত সমাজ হবে না।

বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। টিআইবি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গওহর রিজভী বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া আমরা যে সমাজ চাই তা সম্ভব নয়। তাই একটা আইন হয়েছে মানে এটা অপরিবর্তনীয় নয়। অনেকবার আইন হয়, আবার তা পরিবর্তনও হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও পরিবর্তন আসবে।

সুলতানা কামাল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করছি, কারণ এখানে বিবেককে বন্দী রাখার আশঙ্কা আছে। সরকার বলছে, আইনের বিভিন্ন ধারার অপব্যবহার হবে না। তার মানে এই না যে কখনোই হবে না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সরকারের স্ববিরোধিতার পরিচায়ক। অবিলম্বে এই আইনটি পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন এমনকি প্রয়োজনে বাতিল করে আবার নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম। পরে এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীন, ঢাকা বাংলা (ডিবিসি) চ্যানেলের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু এবং ইউএনবি’র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমদ। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তারা বলেন, এই আইন কোনভাবেই গণমাধ্যমবান্ধব নয় এমনকি জনবান্ধবও নয়। অবিলম্বে সরকারকে এই আইন বাতিল করে নতুন করে আইন প্রণয়নের অনুরোধ করেন তারা।

আলোচনার পর্বের পর টিআইবি’র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮ এর বিজয়ীদের প্ররস্কার প্রদান করা হয়। প্রিন্ট মিডিয়া (জাতীয়) বিভাগে দৈনিক প্রথম আলো’র সিনিয়র রিপোর্টার আনোয়ার হোসাইন, প্রিন্ট মিডিয়া (আঞ্চলিক) বিভাগে খুলনার দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট মিডিয়া (জাতীয়) বিভাগে দৈনিক সমকাল পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি রাজিব নুর এবং একই পত্রিকার উপ-সম্পাদক জাহিদুর রহমান পুরস্কার অর্জন করেন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (প্রতিবেদন) বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মুফতি পারভেজ নাদির রেজা। জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিভাগে মাছরাঙা টেলিভিশনের পাবনা ব্যুরো অফিসের সিনিয়র রিপোর্টার উত্পল মির্জা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রামাণ্য অনুষ্ঠান বিভাগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের তালাশ টিম পুরস্কার অর্জন করেছে এবং জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক অনুসন্ধানী টেলিভিশন প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের জন্য টিআইবি’র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার অর্জন করে যমুনা টেলিভিশনের ৩৬০ ডিগ্রি টিম।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 4 =


আরও পড়ুন