ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস-ট্রাক বিকল, ১২ ঘণ্টার যানজটে নাকাল যাত্রীরা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১:১৪ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 22 বার
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস-ট্রাক বিকল, ১২ ঘণ্টার যানজটে নাকাল যাত্রীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস-ট্রাক বিকল, ১২ ঘণ্টার যানজটে নাকাল যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাস ও একটি ট্রাক বিকল হওয়ায় ১২ ঘণ্টার যানজটের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটারের যানজটে পথিমধ্যে যাত্রীদের রাত্রি যাপন করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত যানজটে পড়া যানবাহনের গতি ছিল খুবই কম। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এদিকে ঘন কুয়াশা, ফেরি সংখ্যা কম ও নাব্য সংকটসহ নানা কারণে শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মহাসড়কের মেঘনা সেতুর ঢালুতে গজারিয়া উপজেলার জামালদী এলাকায় সোমবার রাতে একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া গোমতী ও মেঘনা সেতু এলাকায় টোল আদায় নিয়ে দুইপক্ষের কথা কাটাকাটির জের ধরে টোল আদায়কারীরা কালক্ষেপণ করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে কুমিল্লা থেকে ঢাকা যেতে ৮/৯ ঘণ্টা সময় লাগে। আবার নির্মাণাধীন দ্বিতীয় গোমতী, মেঘনা ও কাঁচপুর সেতুর কারণেও এ মহাসড়কে যানজট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকে মেঘনা সেতু থেকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালের দিকে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে যানজট প্রকট থাকলেও ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসার অংশে যানজট কমেছে। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ দুপুরে জানান, কুমিল্লা অংশে ১০ কিলোমিটার যানজট ছিল। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যানজট তেমন ছিল না। মেঘনা সেতু এলাকায় তীব্র যানজটের প্রভাব দাউদকান্দি অংশে পড়ে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে মহাসড়কের দু’প্রান্তে ২০ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাত থেকে সৃষ্ট যানজটে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বুধবার এ যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় অনেকে হেঁটে রওনা দেন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীদের অভিযোগ, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বহীনতা, বিকল যানবাহন দ্রুত না সরানো, ওজন স্কেল স্থাপন, টোল আদায়ে ধীরগতি যানজটের অন্যতম কারণ।

এছাড়া ৮ লেনের গাড়ি দুই লেনে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, পরিবহন চাঁদাবাজদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, মেঘনা সেতু ও কাঁচপুর সেতু এলাকায় নতুন দুটি সেতুর কাজ পরিচালনা করার কারণে প্রতিদিন মেঘনা সেতু ও কাঁচপুর সেতু এলাকাসহ এর আশপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হয়।

বুধবার সরেজমিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মদনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যানজটে আটকে আছে হাজার হাজার যানবাহন। মাঝেমধ্যে কচ্ছপ গতিতে যানবাহন চলাচল করলেও তা আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য থেমে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে মেঘনাঘাটগামী বোরাক পরিবহনের যাত্রী কামাল হোসেন জানান, সকাল ৯টায় গুলিস্তান থেকে বাসে উঠে মোগরাপারা চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছাতে তার সময় লেগেছে সাড়ে ৫ ঘণ্টা।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক কামরুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় প্রতিদিনই যানজট লাগে। এতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যানজট নিরসনে পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় ওজন স্কেল স্থাপন অন্যতম দায়ী।

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা, ফেরি সংখ্যা কম ও নাব্য সংকটসহ নানা কারণে শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ ঘাটের দুই পারে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। পারাপারের অপেক্ষায় থাকা দুই শতাধিক যানবাহন বিআইডব্লিউটিএ মাঠে ও রাস্তার দুইপাশে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা।

শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে যানবাহন চলাচল করে খুবই কম। সড়কটি মেরামত করায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বাস, ট্রাক, পিকআপসহ হাজার হাজার যানবাহনের পারাপার শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাট দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু নদীতে নাব্য সংকট, ঘন কুয়াশা, ফেরির সংখ্যা কম ও ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে চারটি ফেরিতে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।

বরিশাল থেকে আসা ট্রাক চালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে এখানে বসে আছি। পার হতে পারছি না। ট্রাকচালক জাহিদুল মিয়া বলেন, কোম্পানির মালামাল নিয়ে খুলনা থেকে এসেছি। কিন্তু ধীরে ফেরি চলায় পার হতে পারছি না।

এ বিষয়ে নরসিংহপুর ফেরি ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার আবদুল মোমিন বলেন, চাহিদানুযায়ী ফেরি সংখ্যা কম। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটি, ঘন কুয়াশা ও নদীর কিছু পয়েন্টে নাব্য সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 5 =


আরও পড়ুন