চট্টগ্রামে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 21 বার
চট্টগ্রামে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা চট্টগ্রামে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

চট্টগ্রামে এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর ভর্তি বেড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে।

নতুন শিশু রোগী ভর্তি নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এই দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। নগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে রোগী ভর্তি বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পতেঙ্গাস্থ চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে থাকবে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

ঠাণ্ডার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধুলাবালি। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম যেন ধুলাবালির নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে সংস্কার কাজ ও সেবা সংস্থাগুলোর খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দিন-রাত ধুলায় আচ্ছন্ন থাকছে নগরীর অনেক এলাকা। এতে করে সব বয়সী মানুষের সর্দি, কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। এর মধ্যে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ফলে তাপমাত্রা কমেছে। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি ও সর্বনিু ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

শনিবার সরেজমিন চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৩৪ নম্বর মা ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর চাপ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। প্রতিটি ওয়ার্ড রোগীতে ভর্তি। কোনো বেড-কেবিন খালি নেই। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, নবজাতক, জিএফ ইউনিট ও কেবিন মিলে কোথাও নতুন আগত রোগীদের জন্য বেড খালি না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে নিু আয়ের মানুষদের। অনেকে চলতি মৌসুমে শিশু চিকিৎসায় বাড়তি বেড বরাদ্দের দাবিও তুলেছেন।

নির্ধারিত শয্যা না থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মেঝেতে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর প্রণব কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘নগরীতে ধুলাবালির পরিমাণ বৃদ্ধি ও চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে হাসপাতালের শিশু বিভাগে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

অভিভাবকদের অসচেতনতার ফলে ঠাণ্ডায় অনেক শিশু নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রি-ম্যাচিউর (অকালে জš§ নেয়া) বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য অভিভাবকদের সচেতনতা হওয়া প্রয়োজন।’ চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, নবজাতক এবং শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ড মিলে ১০৪টি শয্যা থাকলেও তিন শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে । কোন কোন শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার হাসপাতালের ইনডোরে রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৩৮ জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =


আরও পড়ুন