আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অর্ধশত কারখানা বন্ধ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১:২৬ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 18 বার
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অর্ধশত কারখানা বন্ধ আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, অর্ধশত কারখানা বন্ধ

সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত ও সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা।

পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার বেরন এলাকায় ও জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল সড়কের পার্শ্ববর্তী প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানার শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে শ্রমিকরা জানান, সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন ও গ্রেড অনুযায়ী বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে তারা পঞ্চম দিনের মতো টানা আন্দোলন করছেন। তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত তারা উপায়ান্তর না পেয়েই এ পথ বেছে নিয়েছেন।

তারা জানান, বাজারের ঊর্ধ্বগতি, বাড়ির মালিকদের ভাড়া বৃদ্ধি, তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বৃদ্ধির কারণে সরকারের ঘোষিত মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যে মজুরি কাঠামো ঘোষণা হয়েছে সেখানে গ্রেড অনুযায়ী তা বৃদ্ধি পায়নি।

তাছাড়া ওভারটাইম, চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। আর তাদের মজুরি বৃদ্ধি শুধু আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা বিগত দিনে আদায় করেছেন বলেও তারা জানান।

পুলিশ জানায়, সকালে বেরন এলাকার শারমিন গ্রুপের এএম ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে কারখানা থেকে সড়কে বেরিয়ে আসেন। এ সময় শ্রমিকরা সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ এতে বাধা দিলে এবং লাঠিচার্জ শুরু করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এ সময় ওই কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেয় পার্শ্ববর্তী স্টার্লিং অ্যাপারেলস, উইন্ডি গ্রুপ, সেতারা গ্রুপ, ডিজাইনার জিন্সসহ প্রায় ১০-১৫টি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে শ্রমিক ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রায় ১ ঘণ্টা পর আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এতে দুর্ভোগে পরে ওই সড়কে সব পরিবহনে আরোহণকৃত যাত্রীরা।

এদিকে সকাল সোয়া ৮টায় ও বেলা পৌনে ১১টায় আশুলিয়ার জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল সড়কের পার্শ্ববর্তী প্রায় ৩০টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শ্রমিকদের হটাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে তারা পৃথক পৃথক স্থানে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। পাশাপাশি শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার চেষ্টায় থাকতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, ওই এলাকার মাসকট নিট ওয়্যার লি., রেডিসন, রাতুল, ইউনিয়ন, কন্টিনেন্টাল, হ্যাশন কোরিয়া, সাউদার্ন মিলিনিয়াম, টেক্সটাউন, ক্রসফেয়ার, এভারগ্রীন, লিলি, এফজিএস, ডিআর, ফ্যাশন ফেয়ার, গ্রীন লাইফ, গ্লোরিয়াস, কমপ্লিট নিট ওয়্যারসহ প্রায় ৩০টি পোশাক কারখানায় তাদের উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা চলে যায়।

ঘটনায় ওই সড়কে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার অধিক সময় কোনো পরিবহন চলাচল করতে পারেনি। এতে চরম দুর্ভোগে পরেছেন সাধারণ অপেক্ষমাণ ও পরিবহনে আরোহিত যাত্রীরা।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় আশুলিয়ার জিরাবো-কাঠগড়া ও জামগড়াসহ বেশকিছু এলাকার প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির সদস্যরা তাদের গাড়ি নিয়ে ঢাকা আরিচা ও জিরাবো-কাঠগড়া-বিশমাইল এবং আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে টহল দিচ্ছেন। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানাগুলোর সামনে দুদিনের বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া সাভারের হেমায়েতপুর,কর্নপাড়া ও সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকাসহ মহাসড়কের পাশের সকল কারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে। প্রতিটি কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিজিবি টহল দিচ্ছে। এরপরও উত্তেজিত শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অটল রয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, তাদের বেতন বৃদ্ধি পায়নি বরং ছলচাতুরি করে তাদেরকে ঠকাচ্ছে। তাই তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − 1 =


আরও পড়ুন