নেতাদের সঙ্গে মাকির্ন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, পোশাক খাতসহ জিএসপি সুবিধা চায় বিজিএমইএ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৪ মার্চ ২০১৯, ৬:০০ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 53 বার
নেতাদের সঙ্গে মাকির্ন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, পোশাক খাতসহ জিএসপি সুবিধা চায় বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে মাকির্ন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, পোশাক খাতসহ জিএসপি সুবিধা চায় বিজিএমইএ

পোশাক খাত অন্তর্ভুক্ত করে জিএসপি সুবিধা চান গার্মেন্ট মালিকরা। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ ব্যাপারে তারা একটি লিখিত বার্তা দেবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার রোববার গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ (বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন) নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য করেন।

এ সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ১১ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

তবে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনোভাবেই এ সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি নয়। বিজিএমইএ কার্যালয়ে দু’পক্ষের আলোচনা শেষে সংগঠনটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যের রফতানিতে জিএসপি সুবিধা ছিল। যদিও ওই তালিকায় তৈরি পোশাক ছিল না। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের পর জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে পোশাক খাত অন্তর্ভুক্তি করে জিএসপি সুবিধা চায় গার্মেন্টস বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলেন। তার সঙ্গে গার্মেন্ট খাতের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো কোনো গণমাধ্যমে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতে অস্থিরতায় ১১ হাজারের বেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের শ্রমিক আইনে ৪টি পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমে অসদাচরণের জন্য কারণ দর্শাতে (শোকজ করা) বলা হয়। এরপর জবাব না দিয়ে কেউ কেউ তার ন্যায্য পাওনা নিয়ে চলে যান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে আজ এক কারখানা থেকে চাকরি গেলে পরের দিন শ্রমিকরা অন্য কারখানায় চাকরি পেয়ে যান। রাষ্ট্রদূতও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যেসব শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, তাদের সংখ্যা ৪ হাজারের নিচে হবে। বিজিএমইএর নিজস্ব মনিটরিং, শিল্প পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, একটা কথা আমরা গার্মেন্ট মালিকদের বারবার বলেছি, তা হল নিরীহ শ্রমিকদের কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না। তবে যারা বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা গেলে দেশের আইন অনুসারে শাস্তি দেয়া যাবে। অ্যাকর্ডের (ইউরোপীয় অঞ্চলের ক্রেতা জোট) ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রশ্ন করেছিলেন। আমরা বলেছি, বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। ৭ এপ্রিল মামলার তারিখ রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যে ৪ হাজার শ্রমিক চলে গেছেন, তার সবগুলোকে ছাঁটাই বলা যায় না। এর মধ্যে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। বাকিদের কেউ কেউ বিজিএমইতে আরবিট্রেশনের (সালিশি) মাধ্যমে তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ শোকজের পরে উত্তর না দিয়ে শ্রম আইন অনুসারে পাওনা নিয়ে চলে গেছেন।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা সব গার্মেন্ট কারখানায় নোটিশ দিয়েছি, কোনোভাবেই কারখানায় সামনে নাম টানিয়ে কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। কিন্তু কোনো কোম্পানির মালিক আইনটি না জেনে এ ধরনের কাজ করেছেন। পরে আমরা তাদের সতর্ক করেছি। তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুঘর্টনার পর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পণ্য রফতানিতে জিএসপি বন্ধ করে দিয়েছিল। এ সময়ে ১৬টি বিষয় বাস্তবায়ন করতে বলেছিল দেশটি। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১টি ছাড়া সবগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা তাদের জিএসপি ফিরিয়ে দিতে বলেছি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জিএসপি ফিরিয়ে দিলেও তেমন কোনো লাভ হবে না। কারণ তৈরি পোশাকে (আরএমজি) যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি দেয় না। এ কারণে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি গার্মেন্ট খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় তুলা (কটন) আমদানিকারক দেশ। তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে পারি। সেই তুলা দিয়ে পণ্য তৈরি করে আমরা দেশটিতে রফতানি করতে পারি। সেক্ষেত্রে তারা আমাদের কী কী সুবিধা দিতে পারে, সে বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে এর আগের রাষ্ট্রদূতের কাছে আমরা একটি চিঠি দিয়েছিলাম। বিষয়টি তাদের বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কয়েকজন উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে স্পিনিং মিল করার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন। সেক্ষেত্রে কী কী সুবিধা দেয়া যায়, সে বিষয়টি ভাবতে বলেছি। তাকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারাই লাভবান হবে। আর বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে। তিনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, রানা প্লাজার পর বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে এসব বিষয় নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে মূল্যায়ন করা উচিত। আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে চাই। জিএসপিতে কী প্রক্রিয়ায় আগাতে হবে, সে ব্যাপারে শিগগিরই একটি চিঠি দিয়ে তারা আমাদের জানাবেন। সেই চিঠি পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =