তারুণ্যে পূর্ণতা পেলেন পঞ্চপাণ্ডব

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৯ মে ২০১৯, ৩:০৬ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 29 বার
তারুণ্যে পূর্ণতা পেলেন পঞ্চপাণ্ডব তারুণ্যে পূর্ণতা পেলেন পঞ্চপাণ্ডব

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণভোমরা ধরা হয় তাদেরকে। যুগপৎভাবে তাদের পথচলায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস। এক দশক ধরে বাংলাদেশ দলের স্বপ্নের ফেরিওয়ালার ভূমিকায় আছেন তারা। পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার; মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ—সম্মান, শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় দেশবাসী যাদেরকে পঞ্চপান্ডব হিসেবে ডাকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক বড় অর্জন এসেছে তাদের হাত ধরে। কিন্তু একটা ধাপ পার হওয়া যাচ্ছিল না। সামর্থ্যের শেষবিন্দু দেয়ার চেষ্টা থাকলেও দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছিল না। বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়ের দুয়ারে কয়েকবার গিয়েও ভগ্ন মনরথে ফিরতে হয়েছে এই পাঁচ স্তম্ভকে। তাদের আক্ষেপ, অপ্রাপ্তির বহর ক্রমেই বড় হচ্ছিল। অবশেষে ভেঙেছে ফাইনালে দুঃস্বপ্নের পালা। ছয়টি ফাইনাল হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ। ডাবলিনে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের রঙিন জার্সিতে ট্রফি জয়ের অপূর্ণতা ঘুচে গেল পঞ্চপান্ডবদের। পূর্ণতা পেয়েছে তাদের ক্যারিয়ার।

বলা বাহুল্য, মাশরাফি-মুশফিকদের ক্যারিয়ারে এত বড় অর্জন এসেছে তরুণদের হাত ধরে। অগ্রজদের ট্রফি উপহার দিলেন তরুণরা। ডাবলিনে শুক্রবার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সৌম্য সরকারের অসামান্য ব্যাটিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে চলে আসা মাশরাফি পেলেন ট্রফির স্বাদ।

সৌম্য-মোসাদ্দেকের প্রশংসায় গতকাল জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা বলেছেন, দেশের ক্রিকেটে পাঁচ স্তম্ভের বাইরেও নতুন স্তম্ভ যোগ হয়েছে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এটা আমাদের বিরাট অর্জন। আমরা এতদিন জাতীয় দলে পাঁচ স্তম্ভের মানে সিনিয়রদের কথা বলতাম। এখন আরো স্তম্ভ যোগ হয়েছে। সৌম্য-মোসাদ্দেকরা সেটা দেখিয়েছে। মোসাদ্দেক অবিশ্বাস্য খেলেছে।’ ডাবলিনে শুক্রবার ফাইনালটা জিতেছে বাংলাদেশ তরুণদের কাঁধে চড়ে। সাইড স্ট্রেইনের চোটের কারণে ম্যাচটা খেলতে পারেননি সাকিব আল হাসান। সময়ের সেরা ক্রিকেটারকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বোলিংয়ে শাই হোপের একমাত্র উইকেটটা নিয়েছিলেন মিরাজ। যদিও বাউন্ডারিতে অসাধারণ ক্যাচটা নিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। ব্যাটিংয়ে ২১০ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেটটাও পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ দুই তরুণের ব্যাটে চড়ে। শুরুতে সুরটা ধরিয়েছিলেন সৌম্য। তার মুগ্ধতা জাগানিয়া ব্যাটে ছিল ভয়ংকর সৌন্দর্য। ৪১ বলে ৬৬ রান করেছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। শেষ দিকে মোসাদ্দেকের রুদ্রমূর্তি এনে দিয়েছে স্বপ্নের ট্রফি।

ওপেনিংয়ে সৌম্যর ছায়া হয়ে ছিলেন তামিম। ১৮ রান করেছেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার। মুশফিক ২২ বলে ৩৬ রান করে ফিরেছেন সাজঘরে। বোলিংয়ে উইকেট পাননি মাশরাফি। ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেক গড়েছেন ৭০ রানের জুটি। যেখানে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ ম্লান ছিলেন মোসাদ্দেকের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের বিপরীতে। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন এক অনুজ তাদের স্বপ্নের পূর্ণতা এনে দিচ্ছে।

ইনিংসের ২২তম ওভারে তিন ছক্কা ও এক চারে ২৫ রান তুলেছিলেন মোসাদ্দেক। সেখানেই রান-বলের দূরত্ব ঘুচে যায়। দৃষ্টিসীমায় চলে আসে জয়। মাহমুদউল্লাহর মারা চারে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ১৯ রান করেন। ফাইনালে চার সিনিয়র ক্রিকেটার খেললেও ডাবলিনে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার রূপকার তরুণরা। সৌম্য-মোসাদ্দেকরা জানিয়ে দিলেন, আগামীর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 − one =