তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতির দায় দুদক এড়াতে পারে না: টিআইবি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ জুন ২০১৯, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 2 বার
তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতির দায় দুদক এড়াতে পারে না: টিআইবি তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতির দায় দুদক এড়াতে পারে না: টিআইবি

তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতির দায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঘুষ লেনদেনে অভিযুক্ত দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বশির এবং পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে টিআইবি। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুদকের পক্ষে এর দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে ঘুষ লেনদেনে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তার সব অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি দুদকের। বিবৃতিতে দুদক ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার’ যে ঘোষণা দিয়েছেন তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় টিআইবি।

এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আমরা জেনেছি যে, ‘তথ্য পাচার, চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগে’ খন্দকার এনামুল বশিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করেছে। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত সমস্যা, যা সর্বজনবিদিত।

দুদক কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ বিষয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু তা যে বাস্তবে কোনো কার্যকর ফল দেয়নি, তার প্রমাণ এই আলোচিত ঘটনা। তাই এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে রীতিমতো শুদ্ধি অভিযান চালাতে না পারলে দুদকের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষের ওপর দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এই তদন্ত শেষ করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার কার্যকর চর্চা করতে হবে। সে অনুযায়ী জনবল ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না- দুদকের এমন অবস্থান আমাদের শুধু হতাশই করেনি বরং আমরা বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি।

একজন উচ্চপদস্থ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল দুদক একে একটা প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে এবং তাদের অন্য কোনো কর্মকর্তাও যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত নন তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। দুদক নিজেই যদি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, তবে তাদের কার্যক্রমের ওপর জনগণের আস্থা থাকবে কি করে?

পাশাপাশি ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ থেকে অব্যাহতি পেতে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ঘুষ দেয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার পরও তার স্বপদে বহাল থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। ‘নারী নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও এই পুলিশ কর্মকর্তা স্বপদেই বহাল রয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন তাদের ওপর জনগণের আস্থা সম্পর্কে কোনো তোয়াক্কা করে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =