জাতীয় ঐক্যের সমাবেশ শেষে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১:৩৮ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 427 বার
জাতীয় ঐক্যের সমাবেশ শেষে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন, সেনা মোতায়েন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা এসেছে জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশ শেষে।

জাতীয় ঐক্য ঘোষণার লক্ষ্যে আজ শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে শুরু হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ।

সমাবেশ শেষে সব মিলিয়ে পাঁচদফা দাবি তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী সভা সমাবেশ হওয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়।

এর আগে সমাবেশে অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতায় বলা হয়েছে জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। কিন্তু আজ দেশের মানুষ ভোটাধিকার, মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এসব পুনরুদ্ধার করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের জনগণের চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। তাই তারা দিশেহারা। দেশের জনগণ একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ নিশ্চিত করতে চায়। কার্যকর গণতন্ত্র ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন দেখতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই ঐক্য প্রক্রিয়া। দেশে ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। তাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে ঐক্য প্রক্রিয়ার ডাক দেয়া হয়েছে। আমি আশা করব- আজকে যারা এই নাগরিক সমাজে এসেছেন তারা জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন এবং কাজ করবেন।’

এরপর বিকালের দিকে কোটাব্যবস্থার সমালোচনা করে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘নির্বোধ ব্যক্তিরা কেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে? দায়িত্বে থাকতে হবে মেধাবীদের, বুদ্ধিমানদের। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব (প্রশাসনে) মেধাবীদেরই গুরুত্ব দিতে হবে।’

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের মেধাবী তরুণ কালকের ভবিষ্যৎ। তিনি কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, তাদের ওপর ছুরি দিয়ে আঘাত করবেন, চাপাতি দিয়ে আঘাত করবেন। গুন্ডা লেলিয়ে দেবেন। আপনি করেন নাই, আপনার লোকজন করেছে। এটা লজ্জার বিষয়।’

বি. চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবাদী জাতি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে, বাংলাদেশ পাকিস্তানি স্বৈরাচার বরদাশত করে নাই, প্রতিবাদ করেছে। এখনো করবে।

এ সময় তিনি দুর্নীতি ও ঘুষ নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘স্পিড মানি বলে সেটা বৈধ করা হয়েছে। সরকারের প্রতিটা মন্ত্রণালয়ে চ্যানেল করেছে একটা মন্ত্রণালয়ও ঘুষ ছাড়া চলে না।’

এর আগে শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তিনি গুলিস্তানে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে মাহী বি চৌধুরী ও মেজর (অব.) মান্নান।

প্রসঙ্গত, শনিবারের সমাবেশে বি চৌধুরীর অংশগ্রহণ নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। গত কয়েক দিন মাহমুদুর রহমান মান্নার চেষ্টায় তিনি সমাবেশে এলেন। শুক্রবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ তিন সিনিয়র নেতাও যান তার বারিধারার বাসায়।

বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে সমাবেশ শুরু হয়। ‘কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করেছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + two =