চলছে বই বিক্রি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 58 বার
চলছে বই বিক্রি চলছে বই বিক্রি

বইমেলায় বই বিক্রির কাল শুরু হয়ে গেছে। অন্যবার মেলায় বিক্রির যে সময় সেটা সাধারণত পহেলা বসন্ত বা ভ্যালেন্টাইনস ডে অর্থাৎ মেলার মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়। কিন্তু এবারের বিষয়টি একটু ভিন্ন। মূলত শুক্রবার থেকেই মেলায় বই বিক্রি শুরু হয়েছে। যা অব্যাহত ছিল শনিবারও। প্রকাশকরা বলছেন, বেচাবিক্রি একটু কম-বেশি হতে পারে তবে বই বিক্রির যে ধারাবাহিকতা সেটি এখন মেলার শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

শনিবার মেলায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। সারা দিন ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় প্রচুর বইপ্রেমীর সমাগম হয় এবং তাদের বেশিরভাগই ক্রেতা। বিকালে মেলায় প্রবেশ করতেই দেখা গেল প্রচুর পাঠক সমাগম। প্রায় প্রতিটি প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই বই বিকিকিনি চলছে। অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে দেখা গেল পাঠকদের প্রচুর ভিড়। আগামী, অবসর, পাঞ্জেরী, মাওলা ব্রাদার্স, অন্বেষা, ঐতিহ্য, কথাপ্রকাশ, অনিন্দ্য, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশসহ ছোট-বড় সবগুলো প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই দেখা গেল ক্রেতা।

ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের অন্যতম স্বত্বাধিকারী আদিত্য অন্তর যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার মূলত মেলায় বিক্রি শুরু হয়েছে। আজকে (শনিবার) তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে। এটা সামনের কয়েকটা দিন অব্যাহত থাকবে। তারপর একটু কমে আবার বাড়বে।

শিশুপ্রহরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলায় ঘুরেছে শিশুরা, বই কিনেছে। শিশু চত্বরের সিসিমপুর মঞ্চে ওরা হালুম, টুকটুকি, ইকরি আর সিকুদের সঙ্গে নেচেগেয়ে আনন্দ করে। তবে শিশুপ্রহরে আগতদের সবচেয়ে বড় পাওনা ছিল জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পাওয়া। তিনি শিশুদের অটোগ্রাফ দিয়ে ও ছবি তুলে তাদের আবদার মেটান। শিশুপ্রহরে আরও এসেছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। তিনি বাংলা ভাষায় অনূদিত পরমাণু শক্তি বিষয়ক তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

বিকালে আবদুল মান্নান শিকদারের কাব্যগ্রন্থ ‘সুন্দর খেলা করে’র মোড়ক উন্মোচন করেন নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে বিভিন্নজনের বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন তিনি। বললেন, দেশে নানা দিক থেকে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। যে কারণে, মেলায় মানুষের আরও বেশি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, জঙ্গি সন্ত্রাস দমন করে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। এর সুফল ভোগ করছে দেশ।

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘লেখক বলছি…’ মঞ্চে নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপ করেন কবি মাহবুব সাদিক (নির্বাচিত কবিতা), কবি-কথাসাহিত্যিক মাহবুব আজিজ (এইসব কলহাস্য), কবি মারুফ রায়হান (হাওয়ানগরের পারুল ফুল), কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান (নদীধারা আবাসিক) এবং কবি ও প্রাবন্ধিক কুমার চক্রবর্তী (কবিতা সংগ্রহ)।

নতুন বই : শনিবার মেলায় নতুন ২১৮টি বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে- ফরিদুর রেজা সাগরের ‘এবারো হাফ ডজন ছোটকাকু’ ও গোলাম কুদ্দুছের ‘ভাষা আন্দোলন সহজ পাঠ’ (অন্যপ্রকাশ), তারেক শামসুর রেহমানের ‘দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি’ (শোভাপ্রকাশ), মশিউল আলমের ‘বাংলা দেশ ও অন্যান্য গল্প’ (মাওলা ব্রাদার্স), ওবায়দুল কাদেরের ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য’ (অন্বেষা), কমলেশ রায়ের সায়েন্স ফিকশন ‘গঙ্কেলের গুপ্ত রহস্য’ (ভাষাচিত্র), শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ অবলম্বনে নাজমা জেসমিন চৌধুরীর ‘কিশোর সংশপ্তক’ (জয়তী), জাকির তালুকদারের ‘গল্পের জার্নাল’ ও সৈয়দ শামসুল হকের ‘কানার হাটবাজার ও অন্যান্য’ (ঐতিহ্য)।

এদিন মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আবদুল হক : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, কবি-সাংবাদিক সোহরাব হাসান এবং প্রাবন্ধিক আহমাদ মাযহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়–য়া।

সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, আবদুল হক বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনা- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে অগ্রণী, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল চিন্তকের পরিচয় দিয়েছেন।

অজয় দাশগুপ্ত বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- উভয় ক্ষেত্রেই আবদুল হক প্রদর্শন করেছেন বুদ্ধিজীবীতার দায়বোধের চূড়ান্ত আদর্শ। তার চিন্তার স্বচ্ছতা, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে আছে এ বিষয়ক প্রবন্ধাবলী।

সুব্রত বড়–য়া বলেন, আবদুল হক একজন সত্যসন্ধ বুদ্ধিজীবী। তার নাট্যরচনা, অনুবাদ, দিনলিপি, প্রবন্ধ গবেষণা- সবকিছুর মধ্যেই বড় করে প্রতিভাত হয়েছে দেশপ্রেম, উদার মানবিকতা এবং নিরাপস মনোভাব।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পর্বে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আতাহার খান এবং ফরিদ কবির। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বেলায়েত হোসেন এবং অনন্যা লাবণী পুতুল। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল গোলাম কুদ্দুছের পরিচালনায় বহ্নিশিখা এবং খাজা সালাহ উদ্দিনের পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ঘুংঘুর সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিবেশনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + sixteen =