উপহার দিয়ে ভোটের ওয়াদা নিলেন শেখ হাসিনা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২ নভেম্বর ২০১৮, ২:৪৮ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 53 বার
উপহার দিয়ে ভোটের ওয়াদা নিলেন শেখ হাসিনা উপহার দিয়ে ভোটের ওয়াদা নিলেন শেখ হাসিনা

ময়মনসিংহবাসীদের উপহার দিয়ে তাদের কাছ থেকে নৌকায় ভোটের ওয়াদা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়নে ১৯৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব প্রকল্পের বাস্তাবায়ন করতে বাংলাদেশকে আরও উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা, সুবর্ণজয়ন্তী ব্যাপকভাবে উদযাপন করার জন্য জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। হাত তুলে ওয়াদা করেন, যে ভোট দেবেন।

এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

২০২১ সালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আর ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত বাংলাদেশে গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কোনো চাওয়া-পাওয়ার নেই। আপনাদের সেবা করাই আমার কাজ। আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা চাই। সবাই সুন্দরভাবে বাঁচবেন। উন্নত জীবন পাবেন সেটাই আমরা চাই।

ময়মনসিংহ বিভাগের কার্যক্রম যেভাবে সুন্দরভাবে চলতে পারে আপনাদের কাছে সেই সহযোগিতা চাই।

এ সময় তিনি দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে কবির ভাষায় বলেন, ‘নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই। আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’

শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন, মহানগর সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তর সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম, কেন্দ্রীয় নেতা অসীম কুমার উকিল, আব্দুস সাত্তার, মারুফা আক্তার পপি, অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন এমপি, শরিফ আহমেদ এমপি, নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি, জুয়েল আরেং এমপি, নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ আলী খসরু, জামালপুর জেলা সভাপতি বাকী বিল্লাহ, শেরপুর জেলা সভাপতি আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেত্রী সাফিয়া ইসলাম, অপু উকিল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, স্বাচিপ মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিব সরকার, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব প্রমুখ।

জাতির পিতা বেতবুনিয়ায় ভূগর্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেক এলাকায় ব্রডব্যান্ড ও ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করেছি। আজকে মহাকাশে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ স্থাপন করে আমরা মহাকাশ জয় করেছি। বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে বসেই অর্থ উপার্জন করতে পারে। নিজের দেশে বসে বিদেশের অর্থ উপার্জন করতে পারে। সেই সুযোগ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আজকে সবার হাতে হাতে মোবাইল। এই মোবাইল বিএনপি আমলে ছিল না। ১৯৯৬ সালে আমি ক্ষমতায় আসি তখনই সবার হাতে মোবাইল পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করি। আজকে সবার হাতে মোবাইল। তিনি সবার হাতে মোবাইল আছে কিনা জানতে চাইলে হাত উঁচু করে সবাই মোবাইল ফোন প্রধানমন্ত্রীকে দেখান। আজকে আধুনিক প্রযুক্তি আপনাদের হাতে। কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মা-বোনেরা খেয়েদেয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। ৩০ প্রকার ওষুধ বিনা পয়সায় তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে দেশে খাদ্যের কোনো অভাব নেই। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দুস্থ মানুষ, প্রতিবন্ধী, বিধবা, বয়স্ক, বিবাহভাতা দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মানী ভাতা দিয়ে যাচ্ছি। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। সমাজে কেউ বাদ থাকবে না। সেই চিন্তা করেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নয়নে রোল মডেল। এটা আমরা অর্জন করতে পেরেছি, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমি মনে করি এটা আমাদের কর্তব্য। বাংলার মানুষ যেন ভালোভাবে এবং সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। বাংলার মানুষ যাতে পেট ভরে খেতে পারে, প্রতিটি মানুষের যেন ঘর থাকে। কারো কোনো অভাব থাকবে না। প্রত্যেক ডিসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে একটি মানুষ গৃহহারা, ভূমিহীন না থাকে। তাদেরকে বিনা পয়সায় আশ্রায়ণ প্রকল্পে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে। গুচ্ছগ্রামের ফ্ল্যাট তৈরি করে দিচ্ছি। বাংলাদেশকে আমরা ভিক্ষুক মুক্ত করব। খুলনায় যেভাবে ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে, সেভাবে ময়মনসিংহকেও ভিক্ষুকমুক্ত করা হবে। এজন্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের একদিনের অর্থ দেবেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ দিচ্ছি। কোনো মানুষ ভিক্ষা করবে না। প্রত্যেক মানুষ কাজ করে খাবে। যারা কর্মক্ষম নয় তাদেরকে ভাতা দেয়া হবে। বিনা ভাড়ায় ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দেব। এই বাংলাদেশ জাতির পিতার বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভাগ নামকায়াস্তে নয়; ময়মনসিংহ বিভাগের সব দফতরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৮ সালে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রেকর্ড গড়েছি। দেশের ৯৩ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। ১৯৫টি প্রকল্পের কাজ শুরু হলে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমরা ২১০০ সালের জন্য ডেলটা প্রকল্পের প্ল্যান তৈরি করে ফেলেছি।

বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতাকে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সদ্য স্বাধীন একটি দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। বাবা-মা-ভাই-সবাইকে হারিয়েছি। মানুষ তার আপনজনকে হত্যার বিচার চাইতে পারে, আমাদের সেই বিচার চাওয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে চেয়েছিল জিয়াউর রহমান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ২০০১ সালে ষড়যন্ত্র করে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হলো না। সে সময় ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে। এই ময়মনসিংহে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর মতো অত্যাচার করেছিল। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল।

২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ৫শ’ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। এই বিএনপি ক্ষমতায় এসে নির্যাতন করে, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কোনো নির্যাতন করে না, দেশের উন্নয়ন করে, মানুষের কল্যাণ করে।

তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সবিস্তারে তুলে ধরে বলেন, আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশের দারিদ্র্য যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, তা এই ১০ বছরে ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আপনাদের সহযোগিতা চাই। আগে যেভাবে ভোট দিয়েছেন, আগামী দিনেও সেভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন, যেন দারিদ্র্যসীমা ৫-৬ ভাগ কমাতে পারি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + seventeen =