কারামুক্ত হলেন আসিয়া বিবি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৮ নভেম্বর ২০১৮, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 11 বার
কারামুক্ত হলেন আসিয়া বিবি কারামুক্ত হলেন আসিয়া বিবি

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া আসিয়া বিবি অবশেষে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন।

মুক্তির পরপরই একটি বিশেষ বিমানে তাকে রাজধানী ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ডনের খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বোচ্চ আদালত আসিয়া বিবিকে খালাস দেয়ার পর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ চলছিল।

সহিংস এ বিক্ষোভ বন্ধ করতে আসিয়া বিবি যেন পাকিস্তান ছাড়তে না পারে তা নিশ্চিত করতে রাজি হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে পাকিস্তান সরকার।

এর পর আন্দোলনকারীরা আটকে রাখা সড়কগুলো ছেড়ে দিয়েছে বলে খবর গণমাধ্যমের।

চু্ক্তি অনুযায়ী সরকার আসিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেবে; সুযোগ থাকবে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলেরও।

খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থেকে যাদের আটক করা হয়েছে, সরকার তাদের ছেড়ে দিলেও যারা সহিংসতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে। এর বদলে টিএলপি বিক্ষোভ বন্ধ করবে এবং সমর্থকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেবে।

চুক্তির কথা নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরীও। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, উগ্রবাদ দমন না করতে পারায় এ পথেই হাঁটতে হচ্ছে তাদের।

এর মাধ্যমে সরকার উগ্রবাদীদের দাবির মুখে মাথানত করছে না বলেও মন্তব্য তার।

ইসলাম দেশটির রাষ্ট্রধর্ম হওয়ায় বিভিন্ন আইনেও এর প্রভাব বিদ্যমান; তারই একটি এ ব্লাসফেমি আইন। যদিও এটি মূলত ব্যক্তিগত রেষারেষির প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যবহৃত হয়, আহমদিয়া ও খ্রিস্টানরাই এর কোপে পড়ে বলে দাবি সমালোচকদের।

আসিয়া নুরিনের (আসিয়া বিবি নামেই যিনি পরবর্তী সময় পরিচিত হন) ঘটনাও অনেকটা তেমনই।

৯ বছর আগে ফল তোলার সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসিয়া নবী মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ অন্য নারীদের।

খ্রিস্টান আসিয়া বালতিতে থাকা পানি গ্লাসে করে খাওয়ায় গ্লাসটি অপবিত্র হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছিলেন ওই নারীরা। এর পরই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

পরে আসিয়ার বাড়িতেও হামলা হয়। সেই সময় মারধরের একপর্যায়ে আসিয়া ব্লাসফেমির ঘটনা স্বীকার করেন বলেও দাবি অভিযোগকারীদের।

আসিয়া অবশ্য শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কথা কাটাকাটি হলেও মুসলমানদের নবীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের খারাপ কথা বলেননি, ভাষ্য তার।

নিম্ন আদালতে আসিয়ার এ ভাষ্য টেকেনি; বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড হয়, যা পরে হাইকোর্টেও বহাল থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 9 =