বাদী ব্যারিস্টার সুমন, মোয়াজ্জেম গ্রেফতার না হলে রিট করব

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ জুন ২০১৯, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 3 বার
বাদী ব্যারিস্টার সুমন, মোয়াজ্জেম গ্রেফতার না হলে রিট করব বাদী ব্যারিস্টার সুমন, মোয়াজ্জেম গ্রেফতার না হলে রিট করব

সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী ১৬ জুনের মধ্যে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা না হলে বা আত্মসমর্পণ না করলে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

এদিকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করেছে সোনাগাজী পুলিশ। এজন্য সোমবার রাত থেকে বেশকিছু এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।

এছাড়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছেন তার মা মনোয়ারা বেগম ও ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার। এদিকে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ও মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত পাঁচজন মুক্তি পেয়েছেন।

মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলার বাদী ব্যারিস্টার সুমন বলেন, মোয়াজ্জেমের খুঁটির জোর কোথায়?

আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে পুলিশ প্রশাসন গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে বা তিনি আত্মসমর্পণ না করলে ১৬ জুন হাইকোর্টে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হবে। তিনি আরও বলেন, এর আগে ২৭ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

নুসরাতের পরিবারসহ সারা দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে কখন মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হবেন বা আইনের আওতায় আসবেন। আমরা ভেবেছিলাম, আজকে তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসবেন। কিন্তু তার মামলাটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠেনি।

আগামী ১৬ জুন থেকে হাইকোর্টে নিয়মিত বেঞ্চ বসবে। শঙ্কা প্রকাশ করে বাদী সুমন আরও বলেন, মোয়াজ্জেম পুরোপুরি বরখাস্ত হননি, সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন। পুলিশ প্রশাসন চাইলে এমন কোনো কাজ নেই যে করতে পারে না।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেও তারা আসামি ধরেছে, এমন ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১৬ আসামিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরেছে পুলিশ। এক মাস তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে পিবিআই। প্রতিবেদনে মোয়াজ্জেম দোষী প্রমাণিত হয়েছেন।

তবে কেন পুলিশ তাকে চোখে চোখে রাখতে পারল না? মোয়াজ্জেমকে ধরতে যত দেরি হচ্ছে ততই মানুষের মধ্যে বিশ্বাস প্রবল হচ্ছে যে, পুলিশ মোয়াজ্জেমকে ধরতে চাচ্ছে না।

এদিকে মোয়াজ্জেম হোসেনের আগাম জামিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মুরাদ রেজা। তিনি বলেন, মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের শুনানি যে দিনই হোক না কেন, রাষ্ট্রপক্ষ অবশ্যই বিরোধিতা করবে।

মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে করা রিটের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মঙ্গলবার হাইকোর্টের কজলিস্ট তালিকায় মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের মামলাটি ছিল না।

মোয়াজ্জেমকে সোনাগাজীর পুলিশ খুঁজছে : সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি জানান, মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারে সোমবার রাত থেকে বেশকিছু এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রামের বাড়ি ও কুমিল্লার বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোনের কললিস্টও সংগ্রহ করেছেন তারা। গত ক’দিনে তিনি কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনাগাজী থানার ওসি মঈন উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এরই মধ্যে একটি দল কুমিল্লার কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে যশোরেও মোয়াজ্জেমের গ্রামের বাড়িতেও পুলিশ গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে।

পাঁচজনের কারামুক্তি : নুসরাত হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার পাঁচজনকে ফেনী কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন- নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন হোনা, সাবেক ছাত্র ব্যাংক কর্মকর্তা কেফায়াত উল্লাহ জনি, যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সাবেক ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী সাইদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে আরিফুল, আলাউদ্দিন ও সাইদুল সোমবার সন্ধ্যায় এবং জনি, হোনা মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী কারাগার থেকে মুক্তি পান। সোমবার মামলার শুনানির প্রথম দিনে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেন আদালত।

ওসি মোয়াজ্জেম কোথায় জানে না পরিবার : যশোর ব্যুরো জানায়, যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় মোয়াজ্জেমের বাড়ি। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে পরিবারের সঙ্গে মোয়াজ্জেমের কোনো যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছেন তার মা মনোয়ারা বেগম ও ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার।

মোয়াজ্জেমের স্ত্রী ও সন্তান কুমিল্লায় বসবাস করেন। মঙ্গলবার সকালে মোয়াজ্জেমের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবার নাম খন্দকার আনসার আলী। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

তার এক ভাই সৌদি আরবে ও আরেক ভাই আমেরিকা প্রবাসী। তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে। বাবার চাকরি সুবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ১৯৯৭ সালে উপপরিদর্শক পদে পুলিশে যোগদান করেন মোয়াজ্জেম। ২০১০ সালের দিকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 8 =


আরও পড়ুন