পাখি পালনে দুই নারীর সাফল্য

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২:১৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 17 বার
পাখি পালনে দুই নারীর সাফল্য পাখি পালনে দুই নারীর সাফল্য

শখ হোক অথবা পেশা হোক সব জায়গাতেই নারী সাফল্য অর্জন করছেন। পোষা পাখি পালনে শারমিনা ইয়াসমিন, নওসিন লায়লা মুনমুন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

পাখি বিক্রির টাকায় ওদের খরচ চালাই : শারমিনা ইয়াসমিন

ঢাকার বাড্ডা লিংক রোডের একটি বাসার ছাদঘরের খাঁচায় বিদেশি পাখির এক ভিন্ন জগৎ। এই পাখির যত্ন করছিলেন শারমিনা ইয়াসমিন। এক সময় পুরোদস্তুর গৃহিণী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। স্বামী, সন্তান, সংসার এক হাতে সামলাতেন। কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বয়স ছয় বছর। ছেলে বয়স চার বছর।

স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ঘরকন্নার পাশাপাশি শারমিনা নিজের জন্য কিছু একটা করতে চাইতেন। তবে সেটা ঘরে থেকে। সংসার সামলিয়ে। পাখির প্রতি টান তার সব সময়। তাই শখের বশে পাখি পোষার কথা ভাবলেন। প্রথমে দুপেয়ার বাজরিগার পাখি।

এর সঙ্গে এক পেয়ার কটাটেল বেবী। এ দিয়েই তিনি পাখি পালন শুরু করেন বছর ছয়েক আগে। প্রথম প্রথম সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই ছিল বেশি। খাঁচায় পাখি পোষাকে মানুষ ভালো চোখে দেখতো কমই।

কিন্তু অদম্য মনোবলের শারমিনা। কারো কথায় কান দেন না। পাখি পোষাকে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৫ জোড়া জাভা কিনে এর দেখাশোনা করেন। বারান্দায় পাখির সংকুলান না হওয়ায় আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করেন। পাখির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে সেখানেও জায়গা হয় না। এরপর বাড়ির ছাদে একটি ঘর করে নিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে শারমিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার সংগ্রহে ২৫ জোড়া লাভবার্ড, ইন্ডিয়ান রিননেক ২ জোড়া, জাপানিজ ক্রেস্টেড বাজরিগার ২৫ জোড়া। এক সময় আমার লাভবার্ডের সংখ্যা ৬৫ জোড়া পর্যন্ত হয়েছিল।

পাখির কোয়ালিটির প্রতি বেশি যত্ন নিতে হয়। পাখি বিক্রির টাকায় ওদের খরচ চালাই। ইচ্ছা করলে অনেকেই আমার মতো পাখি পালন করতে পারেন। অবসর তো কাটবেই, উপরন্তু বাড়তি কিছু অর্থও আসবে। যা সংসারে সচ্ছলতা আনবে।

শীতকালে পোষা পাখির কষ্ট হয়। ওরা ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না। ওদের গরম রাখতে সিরামিক লাইটের ব্যবস্থা করেছি। যা পাখির ঘর গরম রাখে। দেশে উন্নতমানের পোষা পাখি উৎপাদন হয়। তার পরও নিুমানের পাখি আমদানি করা হয়। যা কিনে মানুষ প্রতারিত হয়।

অন্যদিকে দেশি পোষা পাখি পালকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নতুন পাখি পালনে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় আমদানি করা নিুমানের পোষা পাখি। দেশি পোষা পাখি উৎপাদকদের স্বার্থ সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

ছেলেবেলা থেকেই পশু-পাখির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল :নওসিন লায়লা মুনমুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি বিষয়ে এমএ করেছেন নওসিন লায়লা মুনমুন। থাকেন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায়। প্রথমে শখ করে একটি মোরগ কিনেন। নাম দেন লালী। এরপর কিনলেন বাজরিগার, তারপর কটাটেল, খরগোশ। এটা ১৯৯০ সালের দিকের কথা।

ছেলেবেলা থেকেই পশু-পাখির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল। এ থেকেই পাখির প্রতি টান অনুভব করেন। এ প্রসঙ্গে নওসিন লায়লা মুনমুন বলেন, এ জন্য মানুষের অনেক কথা সহ্য করতে হয়েছে। অনেকে এও বলেছে, ‘মেয়েমানুষ পাখি পালে’। সবার তীর্যক দৃষ্টি। ব্যঙ্গাত্মক উক্তি শুনতে হয়েছে। এ সবে পাত্তা দিইনি। পাখি নিয়ে কাজ শুরু করি।

পোষা পাখির যত্ন নিতে নওসিন ভেটেনারী চিকিৎসার বই, হোলিস্টিক টিটমেন্ট পদ্ধতি, ইন্টারনেটে প্রচুর পড়াশোনা করেন। দেশ-বিদেশের এভিয়ান ভেটদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদিকে নিজের পোষা পাখির সংগ্রহ বেড়ে যায়। পাখি ডিম দেয় বাচ্চা ফোটে। প্রথমে তিনি পাাখির চিকিৎসা পদ্ধতি নিজের পাখির ওপর প্রয়োগ করেন। সফল হোন এক শতভাগ। এরপর অন্যদের সাহায্য করেন।

পোষা পাখির জগতে এক অনন্য নাম নওসিন লায়লা মুনমুন। কারো পাখি অসুস্থ হলে ছুটে যান তিনি। সময়-অসময় নেই। মাঝ রাতে ফোন, আপা পাখি ঝিমোয়, খাচ্ছে না সবুজ পুপ। মুনমুন পাখির জন্য পরামর্শ দেন।

ফেসবুকে মুনমুনের একটা গ্রুপ আছে। বাংলাদেশ বার্ড হেল্প নামে। সেখানে মুনমুনের পোস্ট ভালো লাগে জাকারিয়ার। ইনবক্সে ম্যাসেজ আদান-প্রদান দু’জনার। প্রেম অতঃপর প্রণয়। পোষা পাখি দুটি মানুষের হৃদয়কে এক জায়গায় এনে দিয়েছে।

মুনমুনের সংগ্রহে ৪০ জোড়ারও বেশি পাখি রয়েছে। বাজরিগার, কটাটেল, লাভবার্ড, রেম্পসহ বিভিন্ন বিদেশি খাঁচার পাখি। থাকেন ভাড়া বাড়িতে। সে কারণে পাখি পালন করতে একটু সমস্যা হয়। এ জন্য বাড়িওয়ালাকে বাড়তি টাকা দিতে হয় তাকে। মুনমুন পাখি বিক্রির টাকায় পাখির খরচ বহন করেন। আবার বাড়তি টাকাও থেকে যায়। পাখির ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না।

নওসিন লায়লা মুনমুনের মতে, পোষা পাখি রফতানির সুব্যবস্থা করা দরকার। পোষা পাখি তরুণ, যুবক, যুবতীদের বিপদে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। ঘরে বসেই পাখি পালন করা যায়। এ জন্য দিনে ঘণ্টা দুয়েক সময় দিলেই যথেষ্ট। এতে বাড়তি উপার্জন হবে। সংসারে স্বচ্ছলতা বাড়বে।

পোষা পাখির অসুস্থতায় যেখানে এন্টিবায়োটিক ওষুধের কথা ভাবা হয়। সেখানে মুনমুন পাখির জটিল রোগের ভেষজ চিকিৎসায় সফল হয়েছেন। পাখির প্রটোজোয়াল ইনফেকশনে থানকুনি পাতা, আদার রস, সালমোনেলোসিসের জন্য চা পাতি, তুলসি পাতা, পুদিনা পাতা, ট্রাইকোমোনাসিসের জন্য আদা, লেবু, এলোভেরা, মাইকোপ্লাজমোসিসের জন্য নিম পাতা ও আদার রস দিলে ভালো কাজ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 − one =