নতুন বছরে ব্যাংকিং খাত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এমডিদের অঙ্গীকার

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৬ জানুয়ারি ২০১৯, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 30 বার
নতুন বছরে ব্যাংকিং খাত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এমডিদের অঙ্গীকার নতুন বছরে ব্যাংকিং খাত সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এমডিদের অঙ্গীকার

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বছর

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, এমডি সোনালী ব্যাংক

নানা সংকটের মধ্যেও বিদায়ী বছরে প্রায় সব ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ থেকে আদায়, পরিচালন মুনাফায় উল্লম্ফনসহ সব সূচক বিবেচনায় সোনালী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে নতুন বছর সুশাসন প্রতিষ্ঠার বছর হিসেবে ঘোষণা করেছি। এ বছরটিতে আমরা সব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠব। অর্থাৎ যা অর্জন করেছি তা সংরক্ষণ করতে চাই। বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেডা) চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিদায়ী বছরে আমদানি ব্যয় বেশি ছিল আর রফতানি আয় কম ছিল। আগামীতে এর উল্টোটা হবে। পদ্মা সেতুসহ বড় প্রকল্পগুলো চালু হলে উন্নয়নের গতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে যাবে। বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ে বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠবে। ফলে দেশ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এফডিআই বেশি পাবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ থেকেও অনেকে বিদেশে বিনিয়োগ করছেন। দেশে আসা আর বিদেশে নেয়ার মাঝে যেন ভারসাম্য থাকে সে দিকে নজর রাখতে হবে।

সুদহার সমভাবে কার্যকর করতে হবে

মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম, এমডি, অগ্রণী ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতে নতুন বছরে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- দেশে শিল্পায়নের জন্য ব্যাংকে ঋণ ও আমানতে সুদের হার ৯ ও ৬ শতাংশ যে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সরকারি ব্যাংক শতভাগ বাস্তবায়ন করলেও বেসরকারি ব্যাংক সেভাবে কার্যকর করেনি। এটি সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকে সমানভাবে কার্যকর করতে হবে। তা না হলে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

দেশের স্বার্থে ঘোষিত সুদের এ হার সবাইকে কার্যকর করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যাংকের অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সময় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রফতানি আয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রেমিটেন্স তথা প্রবাসী আয়ও বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে রেমিটারদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।

এভাবেই আয়-ব্যয় সমান করতে হবে, না হয় বৈষম্য সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিতে হবে।

নতুন বছরে ব্যাংকিং খাতে চার চ্যালেঞ্জ

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এবিবির চেয়ারম্যান

নতুন বছরে ব্যাংকিং খাতে চার চ্যালেঞ্জ। এগুলো হচ্ছে- সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানত সংগ্রহ করা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং বেশ কিছু ব্যাংকের পুঁজি সংকটের সমাধান। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে এসব কথা বলেন। আমানত সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট, এফডিআই এবং পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে হবে। এ ছাড়া আমানত সহায়ক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। সম্প্রতি ব্যাংকার্স সভায় উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে গভর্নর ফজলে কবির উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি ১১ দশমিক ৪৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ নামিয়ে আনার তাগিদ দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ কমানো বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া বেশ কিছু ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে হবে। সর্বোপরি ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। ঋণ বিতরণে যাচাই-বাছাই করে ঋণ দিতে হবে। তা না হলে ঋণ ফেরত আসবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 19 =