কর জিডিপির হার বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ হার কম হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের সমালোচনার মুখে সরকার

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৪:৩০ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 24 বার
কর জিডিপির হার বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ হার কম হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের সমালোচনার মুখে সরকার কর জিডিপির হার বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ হার কম হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের সমালোচনার মুখে সরকার

দেশের অর্থনীতির পরিসর বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না কর জিডিপি অনুপাত। বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আদায়ের হার অনেক কম। ফলে রাজস্ব আয় থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থের জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এই জোগান বাড়াতে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও উন্নয়ন সহযোগীরা বারবার তাগাদা দিচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগও সরকারকে তাগিদ দিচ্ছে (সিপিডি) এ ব্যাপারে।

সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে দেখা যায়, জিডিপির পরিমাণের সঙ্গে কর আদায় বাড়াতে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে বিশেষ জরিপ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন করদাতা শনাক্ত করা হবে। করের আওতা বাড়িয়ে বিশেষ শ্রেণীর জন্য কর ছাড় দেয়া হবে।

কর আহরণের ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা আছে সেগুলোকে নিরসন করে করবান্ধব করা হবে। কর আদায় ব্যবস্থাকে অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হবে। কর পরিশোধ শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাখা হবে না।

করদাতারা যে কোনো সময়ে কর পরিশোধ করতে পারবেন। চাকরিজীবীদের কাছ থেকে কর মাসিক ভিত্তিতে আদায় করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটি বর্তমানে চালু থাকলেও সবক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। বছরভিত্তিক গিয়ে কার্যকর হচ্ছে। এতে কর আদায়ের গতি কমে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আয়কর মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন ২০ লাখ। আগামী ২ বছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ লাখ করা হবে। পাশাপাশি ই-টিআইএনধারী সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখে উন্নীত করা হবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এই হার বাংলাদেশে অনেক কম, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় কর জিডিপির অনুপাত একেবারে সর্বনিম্নে প্রতিবেশী সব দেশের তুলনায় এ হারে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক ও সরকারি হিসাব বলছে, ৭ বছরে দেশের কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানো যায়নি ১ শতাংশও। অথচ ওই সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছে। ওই সময়ে প্রায় পৌনে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ছিল ১৩ লাখ ৪৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২২ লাখ ৩৮৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ আরও বাড়িয়ে ২৫ লাখ ৩৭৮ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে আয়কর আহরণের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৮৪৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ হাজার ৬৯৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

ওই সময়ে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার এবং জিডিপির আকার যেভাবে বেড়েছে সেইভাবে কর জিডিপির অনুপাত বাড়েনি। যে কারণে সরকারের আয়ের উৎস এখনও পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল- যেমন ভ্যাট, আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর।

সরকারের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৭ বছরে কর জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বাড়ানো যায়নি ১ শতাংশও। ২০১০-১১ অর্থবছরের পর দুই অর্থবছর এ অনুপাত কিছুটা বাড়লেও পরে টানা তিন অর্থবছর তা কমতে থাকে।

সবশেষ অর্থবছরে (২০১৭-১৮) যা দাঁড়ায় ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। করবহির্ভূত আয় বাদ দিলে এ অনুপাত এখনও ছাড়াতে পারেনি এক অঙ্কের ঘর। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে কর জিডিপি অনুপাত সাড়ে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ। ভুটানে এ হার ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

শ্রীলঙ্কায় ১২ দশমিক ৩৬, পাকিস্তানে ১৫ দশমিক ৩ ও নেপালের ২০ দশমিক ৬।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসন এবং শৃঙ্খলার অভাবেই দেশে কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানো যাচ্ছে না। এমনকি আগামী ৫ বছরে ১ শতাংশও বাড়বে কিনা তা নিয়েও আছে শঙ্কা। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে।

একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের রাজস্ব আয় পরিস্থিতির তুলনা করা হয় মূলত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কত শতাংশ রাজস্ব আয় থেকে আসে তার সঙ্গে। যে দেশের এ অনুপাত বেশি, সে দেশ তত বেশি স্বনির্ভর। প্রত্যেক দেশের জনসংখ্যা ও করযোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার ভিন্নতা থাকে বিধায় এটিই সর্বজনগ্রাহ্য পদ্ধতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 16 =