এনবিআরের সভায় অর্থমন্ত্রী, আগামী ৫ বছর টানা কমবে কর হার

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১ মে ২০১৯, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 19 বার
এনবিআরের সভায় অর্থমন্ত্রী, আগামী ৫ বছর টানা কমবে কর হার এনবিআরের সভায় অর্থমন্ত্রী, আগামী ৫ বছর টানা কমবে কর হার

বড় কোনো অঘটন না ঘটলে আগামী ৫ বছর পর্যায়ক্রমে কর হার কমবে, বাড়বে না। পাশাপাশি আয়কর আইন সহজ করে অনেক ক্ষেত্রে তুলে নেয়া হবে দ্বৈতকর। হয়রানিমুক্ত রাখা হবে আয়কর এলাকা।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শ কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামীতে দু’সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসায়ীরা রফতানির নগদ সহায়তা ব্যাংক থেকে তুলতে পারবেন, এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রফতানি খাতে সব পণ্যে প্রণোদনা দেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এনবিআর এবং এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই আমি একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করব। যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেউ যদি মনে করে অন্যায় করে পার পাওয়া যাবে না, সে আর অন্যায় করবে না। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসন্ন বাজেটে অনেক বড় বড় সংস্কার করা হবে, যা স্বাধীনতার পর করা হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত, আয়কর খাত ও কাস্টমসে সংস্কার করা হবে। খেলাপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের মাফও করতে পারব না, আবার জেলেও নিতে পারব না। এক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা শুধু সরকারের নয়, যারা সুবিধা নিয়েছে তাদেরও।

তিনি বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে আয়কর এলাকাকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করা। সহজ করা হবে আয়কর আইনও।

নতুন ভ্যাট আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী একাধিক রেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ। আগে যেসব ক্ষেত্রে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হয়েছে সেখানে পরিবর্তন আনা হবে না। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য।

আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্য হিসেবে আসছি। আর আসছি দায়বদ্ধতা থেকে। আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। ব্যবসাবাণিজ্যে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলেন, আপনারা (ব্যবসায়ী) অনেক চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে।

দেশে একটি কথা চালু আছে যে, যারা কর দিচ্ছে প্রতিবছর তারা শুধু দিয়েই যাচ্ছে। আর একশ্রেণীর মানুষের কর দেয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দিচ্ছে না। সংসদে দাঁড়িয়ে আমার প্রধান বক্তব্য হবে যারা এতদিন কর দিয়েছেন এখন থেকে তারা কম কর দেবেন। আরা যারা দেয়নি তারাই কর দেবেন।

রফতানি খাত প্রসঙ্গে বলেন, আমি সব ধরনের রফতানি পণ্যে প্রণোদনা দেব। আর নগদ সহায়তা দুই সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যাবেন। এ জন্য আমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩ মাসের রফতানি প্রণোদনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়ে নেব। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট বাস্তবায়ন করতে আমার ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে।

এ টাকার ব্যবস্থা আপনারা (ব্যবসায়ী) করে দেন, আমি সব ধরনের সহায়তা আপনাদের দেব। এনবিআর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এনবিআরের সব কর্মকর্তা খারাপ নয়। ঘুষ খাবও না এবং দেবও না। ঘুষ খাওয়া এবং দেয়া উভয়েই জাহান্নামি হবেন। আমরা কি জাহান্নামি হতে দুনিয়ায় আসছি? তার এ মন্তব্যকে ব্যবসায়ীরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্যায় ও অনিয়ম দূর করতে যে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করব সেখানে এফবিসিসিআই, সাধারণ ব্যবসায়ী, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী সব শ্রেণীর লোক থাকবে। কেউ অন্যায় করলে ওই কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হলে ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদালতেও যেতে হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায়ই শোনা যাচ্ছে দেশ থেকে টাকা চলে যাচ্ছে। এটি বন্ধ করতে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে প্রতিটি পণ্যের পরীক্ষা করা হবে স্ক্যানিং মেশিনে। তিনি বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ গর্বিত হওয়ার কারণ আপনারা (ব্যবসায়ী)। এক সময় ফকির-মিসকিন হিসেবে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে চিনত। বাংলাদেশি পরিচয় দিতে কষ্ট হতো।

বাংলাদেশ এ পর্যায়ে আসতে কয়েকটি টার্নিং পয়েন্ট পেয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে জানতে পেরেছে। এক সময় রফতানি আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাট। আগের অবস্থায় পাটকে নেয়া সম্ভব বলে মনে করি।

প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি পাটের ব্যবসা-বাণিজ্যে কর বাড়ানো হবে না। মুস্তফা কামাল বলেন, জোর করে কারও কাছ থেকে ট্যাক্স নেব না। এক টাকাও বেশি আদায় করব না। মনে রাখতে হবে এ দেশ আমাদের। স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আমরা কেউই দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতিকে না বলতে হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দুটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রফতানি ও রফতানির জন্য পণ্য বহুমুখীকরণ। আজকে পোশাক খাত এ পর্যায়ে আসার পেছনে বন্ড এবং ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা কাজ দিয়েছে। তবে বন্ডের কিছু অপব্যবহার হয়েছে। এরপরও তৈরি পোশাক খাত দাঁড়িয়ে গেছে।

এ খাতে অনেক বেশি অর্জন হয়েছে। যে কারণে বন্ডের লিকেজ খুব বেশি সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, পোশাক খাতকে উদাহরণ হিসেবে দেখে এই বন্ড সুবিধা অন্যান্য পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে দেয়া যেতে পারে।

আশা করছি এ ব্যাপারে সরকার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, যারা বন্ডের অপব্যবহার করেছে তাদের ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের ছিল। তা করছে না ব্যবসায়ীরা। এখানে ব্যবসায়ীদের নৈতিকতার অভাব রয়েছে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। এক ব্যবসা সহজীকরণ অপরটি হচ্ছে ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রদান।

ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে। এখন অনলাইনে আবেদন করলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির অনুমোদন মিলছে। তিনি বলেন, ডুয়িং বিজনেস পরিবেশ আরও উন্নত করা হবে। আশা করি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এই স্কোর ১৭৬ থেকে নামিয়ে ১২৫ এ আনা হবে।

কারণ বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। এই সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে বসে আছেন বেসরকারি ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতিনিধি। আমি নিজেও বেসরকারি একজন প্রতিনিধি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইনে যেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকবে সেখানে রিবেট সুবিধাও থাকবে। নতুন ভ্যাট আইনে অনেক ক্ষেত্রে ট্যারিফ ভ্যালু কমবে। তবে এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ আইন এমন নয় কার্যকরের পর ২০ বছরেও পরিবর্তন করা যাবে না।

প্রয়োজন হলে আগামী বছরেও পরিবর্তন করা যাবে। আশা করি ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। আগামী বাজেটে করনেট আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 5 =