অর্থনীতি অসাধারণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৭ নভেম্বর ২০১৮, ১:৩৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 23 বার
অর্থনীতি অসাধারণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী অর্থনীতি অসাধারণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি অসাধারণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০১ হতে ২০০৬ সময়কালে আমাদের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে ৫.৪০ শতাংশ। গত দশ বছর গড়ে ৬.৭১ শতাংশ হারে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এখন প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ। মঙ্গলবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দুতিয়াপুরে কুমিল্লা-১০ আসনের অধীভুক্ত সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সমাবেশে বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরের অর্থনীতির উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর অর্থনীতির আকার ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে ৩৮ বছর লেগেছে। আর মাত্র সাত বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এখন তা ২৭৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ উন্নীত হয়েছে জিডিপি’র ৫.৬ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশে। বেসরকারি বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ এর ৯৯ হাজার ২৭১ কোটি টাকা হতে প্রায় চার গুণ বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৭৪৪ মিলিয়ন ডলার, যা তিনগুণ বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে। তিনি বলেন, চার দলীয় জোট সরকারের শেষবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশ এবং ১/১১-এর সরকারের সময় ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে ১২.৩ শতাংশ। গত তিন বছর সাত শতাংশের ওপর জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি ৬.০ শতাংশের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে এবং অতি-দারিদ্র্যের হার ২৫.১ শতাংশ থেকে ১১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ১৯৯২ সালের পর হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট যত লোক দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে তার প্রায় ৫০ শতাংশই ঘটেছে বর্তমান সরকারের সময়কালে। মন্ত্রী বলেন, প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৬.৫ বছর থেকে বেড়ে হয়েছে ৭২.০ বছর। একই সময়ে শিশু মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মে ২০০৬ সালে ছিল ৪৫ জন, যা এখন ২৮ জনে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত ৯ বছরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ চারগুণ বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর কোনো কল্পনা নয়, নিছক কোনো স্বপ্ন নয়—এখন এটা বাস্তবতা।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে সরকারের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। কেননা অতীত ইতিহাস এবং বর্তমানের তুলনামূলক চিত্রই আমাদেরকে বলে দেয় বাংলাদেশকে উন্নত দেশ করার জন্যে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + 3 =