রেলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে যাত্রীরাই ভরসা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৩০ মে ২০২০, ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 55 বার
রেলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে যাত্রীরাই ভরসা

করোনা মহামারী পরিস্থিতির কারণে ৬৭ দিন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর আগামীকাল থেকে সীমিত পরিসরে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন চালাতে যাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আজ (শনিবার) ট্রেন পরিচালনার সার্বিক বিষয় নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন উপস্থিত থেকে ট্রেন পরিচালনাসহ নানা দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন।

রেলওয়ে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের নির্দেশনায় ট্রেন পরিচালনা হলেও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব যাত্রীদেরই নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের কেবল অনুরোধ করা হবে- জোর করা হবে না। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন যুগান্তরকে জানান, ৩১ মে থেকে স্বল্পপরিসরে আমরা ট্রেন পরিচালনা শুরু করব। পর্যায়ক্রমে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করছি সব যাত্রী শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা বজায় রাখবেন। এতে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা উৎসাহ পাবেন।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে এ নিয়ে রেলভবনে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। আমরা সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথা স্টেশনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিপিইসহ নিরাপত্তা সামগ্রী নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ট্রেনের মধ্যে একটি কোচ থাকবে ‘আইসোলেশন কোচ’ হিসেবে। এটিতে দুটি অংশ করা হবে। কোনো যাত্রী যদি অবৈধভাবে ট্রেনে উঠে পড়ে তাকে ওই আইসোলেশন বগির একটি অংশে রাখা হবে। অপর একটি অংশে রাখা হবে চলন্ত অবস্থায় কোনো যাত্রী যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাদের রাখা হবে। কিংবা করোনায় আক্রান্ত-লক্ষণগুলো যাদের মধ্যে দেখা যাবে তাদের রাখা হবে।

ট্রেনের ভেতর বিনা কারণে কোনো অবস্থাতেই চলাচল করা যাবে না। টয়লেট ব্যবহারও করতে হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী। টয়লেট ব্যবহারে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্ক এবং সচেতন হতে হবে। ট্রেনে ওঠার এবং নামার ক্ষেত্রে দরজার হাতলে টিস্যু কিংবা রুমাল দিয়ে ধরতে হবে।

রেলওয়ে পুলিশের ডেপুটি চিফ মো. মোর্শেদ আলম যুগান্তরকে জানান, ট্রেনযাত্রীদের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী থাকে।

বিশেষ করে ঈদের সময় তাদের শত অনুরোধ করেও ট্রেনের ছাদে-ইঞ্জিনে ওঠা থেকে বিরত রাখা যায় না। ওই সময় ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ অতিরিক্ত কোচও দেয়া হয়। কিন্তু এবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম পর্বে ৮টি ট্রেন চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। রেলওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে দায়িত্ব পালন করবে।

তবে এটা ঠিক যে, যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদেরই ভূমিকা থাকতে হবে বেশি। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকব। অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য। কিন্তু কিছুতেই জোর করতে যাব না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টিকিট কাটা থেকে শুরু করে ট্রেন ওঠা-বসা-নামা সবই অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীদেরই করতে হবে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে, তারাও বিষয়টি নিশ্চয় নিশ্চিত করবে।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার মিজানুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে যেসব স্টেশনগুলো থেকে ট্রেন ছাড়বে, পৌঁছবে এবং বিরতি দেবে- সেসব স্টেশন কাউন্টারগুলোর সামনে নির্ধারিত দূরত্ব রেখে গোল চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কমলাপুর স্টেশন চত্বর থেকেই যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চারটি পর্বের মধ্য দিয়ে ট্রেনে উঠতে হবে। দুটি প্রবেশপথে দূরত্ব বজায় রেখে স্বচ্ছ ডিজিটাল কাচে যাত্রীদের টিকিট চাপ দেবে- অপর প্রান্ত থেকে টিকিট চেকার নিশ্চিত করবে টিকিটটি সঠিক কিনা। সঠিক হলে তাকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। এরপর প্রত্যেক যাত্রীরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার করাসহ থার্মাল স্ক্যানের মাধ্যমে তাপমাত্রা মাপার পর প্লাটফর্মে প্রবেশ করবে। দূরত্ব বজায় রেখে ট্রেনে উঠবে এবং বসবে- একই সঙ্গে ট্রেন থেকে নামবেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টেশনে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা জানান, করোনা প্রতিরোধে মার্চের শুরু থেকে কমলাপুরসহ বড় বড় স্টেশনগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও থার্মাল স্ক্যান যন্ত্র রাখা হলেও স্টেশনে প্রবেশ করা যাত্রীদের মধ্যে ১০ শতাংশ যাত্রীও তা মানেনি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদেরও কিছু করার ছিল না। কারণ তাদেরও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী ছিল না। এখনও নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা রেলওয়ে বিভাগের অপর এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, শুক্রবার কমলাপুর স্টেশনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা থার্মাল স্ক্যান পৌঁছেনি। এর আগে এত বড় স্টেশনে শুধু একটি থার্মাল স্ক্যান দেয়া হয়েছিল। ছিল না পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানেইটারজার।

তিনি বলেন, টিটিই, বুকিং সহকারী মাস্টার থেকে শুরু করে স্টেশনে দায়িত্বরত সবাইকে পিপিইসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়া না হলে চরম ঝুঁকির মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। এতে যে কোনো সময় তারা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গ্রুপ ক পর্বে সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, উদয় এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস চালানো হবে। রেলওয়ে অপারেশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, শতভাগ টিকিট অনলাইনে ছাড়া হবে- তবে কেউ যদি কাউন্টার থেকে কাটতে চায় তাও কাটতে পারবে।

রেলওয়ে ম্যাকানিকেল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, বাংলাদেশ রেলে ডিজিটাল কিংবা আধুনিক কোনো পদ্ধতি নেই- দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার। যতটুকু সময় পাওয়া যায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই ট্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়। এ ক্ষেত্রে লোকবলেরও অভাব রয়েছে। ট্রেনের সিট- দরজার হাতল, জানালা ও বাথরুমগুলো যথাযথ হাইজিনিক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। টয়লেট ও বেসিংয়ে সাবান দেয়া হবে। কিন্তু এসব সাবান প্রায় চুরি হয়ে যায়। করোনার এ সময়ে যাত্রীদের সহযোগিতা চেয়েছে ম্যাকানিকেল বিভাগ।

চট্টগ্রাম জেলা রেলওয়ে পুলিশ সুপার নওরোজ হাসান তালুকদার জানান, পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে রেলওয়ে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে যেসব ট্রেন চালানো হবে সেই ট্রেনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪ জন করে পুলিশ দেয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন স্টেশনে পুলিশ সতর্কাবস্থায় থাকবে।

তিনি বলেন, চলন্ত অবস্থায় ট্রেনে কোনো যাত্রী উঠলে তারা কিছুতেই ঠেকাতে পারেন না। এক্ষেত্রে প্রতিটি স্টেশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 7 =