ত্রান বিতরনে অনিয়মে ভাইরাল কান্ডে মদদ যোগাচ্ছে অপরাজনীতি

অথর
বিশেষ প্রতিনিধি  কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১৭ মে ২০২০, ৯:০৩ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 236 বার
ত্রান বিতরনে অনিয়মে ভাইরাল কান্ডে মদদ যোগাচ্ছে অপরাজনীতি

সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারী ত্রান বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যরা ত্রান বিতরনে অনিয়ম করেছে এরকম তথ্য প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে। যেগুলো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে স্যোশাল মিডিয়ায়। কিছু কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যরা জেনেশুনে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়েছেন। আবার কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে বা ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান তৈরী করতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অপরাজনীতি করছেন।
এখানে বলে রাখা ভালো, ত্রান বিতরনে অনিয়ম নিয়ে যে সব সংবাদ প্রচারিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেসব সংবাদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে কয়েকজন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তে বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে অভিয়োগের সত্যতা অনুসন্ধানে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। কিছু কিছু চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্য সরাসরি ত্রান বিতরনে অনিয়মের সাথে জড়িত না থাকলেও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন নি এরকম অভিযোগও উঠছে।
এখন প্রশ্ন হলো এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় যে সব চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা কি সত্যিই ত্রান বিতরনে অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন? নাকি আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের রাজনীতির খেলায় লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাইছেন?
এমনও কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যানকে ঘায়েল করতে কিছু অনলাইন পোর্টালে মনের মাধুরী মিশিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন কেউ কেউ। যার নকশা প্রনোয়ন হচ্ছে বিরোধী শিবির থেকে।
এই জেলায় ত্রান বিতরনে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশকিছু জাতীয় পত্রিকা, প্রথমসারির বেসরাকারী টেলিভিশন, বহুল প্রচারিত ও পাঠক নন্দিত স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ফলে প্রশাসনেরও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা সহজ হয়েছে বা হচ্ছে।
এর উল্টো চিত্রও আছে। গত দুই তিনদিন ধরে দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ত্রান বিতরনে অনিয়ম হয়েছে মর্মে বেশকিছু অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। দুই একটি স্থানীয় পত্রিকাতেও সেই সংবাদকে মুখরোচক করতে বিশেষনযুক্ত হেডলাইন দিয়ে পাঠককে পড়ার জন্য আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সেই সংবাদ পড়ে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যও করছেন। বিভিন্ন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে আড়িয়া ইউনিয়নে অসংখ্য ভুক্তভোগী অভিযোগ করছেন তারা ভিজিডি কার্ডের চাউল পাচ্ছেন না বা ভিজিডি কার্ডে তাদের নাম থাকলেও তারা তা জানেনই না। আবার এই সংবাদের ভিতরেই সুবিধাভোগীদের পরিচয় দিতে গিয়ে ৫ থেকে ৬ জনের নাম পরিচয় প্রকাশ করছেন। রাজনীতিটা এখানেই। যে ৫ থেকে ৬ জন সুবিধাভোগীর কথা বলা হচ্ছে তারা বলছেন তাদের নামে কার্ড আছে কিন্তু তারা ভিজিডির চাল পাচ্ছেন না। চাল পাচ্ছেন অপেক্ষাকৃত সচ্ছলরা। কিন্তু তারা বলেননি তাদের ভিজিডির কার্ডের চাল চেয়ারম্যান তুলে খাচ্ছেন বা চেয়ারম্যান তাদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। এখানে একটা বিষয় পানির মত পরিষ্কার সেটা হলো যেসব চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে এখানেও অভিযোগের নকশাটা সুক্ষভাবে পরিকল্পনা মাফিক উপস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছে। মজার বিষয় হলো যে ছয়জন ব্যক্তির অভিযোগের পেক্ষিতে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে টেনে হিচঁড়ে কাঁদা পানিতে নামানোর চেষ্টা হচ্ছে তাতে যে পরিমান অর্থ খরচ হয়েছে তাতে ৬ জন নয় অন্ততঃ ২০টি পরিবারকে সহযোগিতা করা সম্ভব ছিলো।
তাহলে যারা মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে রাজনীতির এই খেলায় বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের স্বার্থটা কি? সেই প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুবিধাভোগী জানিয়েছেন এলাকার একজন প্রভাবশালীর প্ররোচনায় তিনি না বুঝে মিথ্যা কথা বলেছেন।
তবে আড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদ আনসারী বিপ্লব জানিয়েছেন, আমি আমার ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে সব সময় আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো ইন্শাল্লাহ। ভিজিডি’র চাল বিতরনে অনিয়মের বিষয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমার ইউয়িনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৫ থেকে ৬জনের অভিযোগ ভিজিডি তালিকায় তাদের নাম থাকলেও তারা চাল পান নি। স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বা সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা প্রস্তুতের কাজ করে থাকে। কারন তারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাদের দেওয়া তালিকাতেই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে থাকেন। এখানে একজন চেয়ারম্যানের অবশ্যই ক্ষমতা আছে অনিয়মের বিষয়টি দেখার। তার জন্য তো আমাকে জানাতে হবে। আমার কাছে এখন পর্যন্ত একজন সুবিধাভোগীও কোন অভিযোগ করেন নি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে যা সরকারী সহায়তা পেয়েছি সেগুলো সুষ্ঠু বণ্টনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে আরো ১৬০০ প্যাকেট ত্রান বণ্টনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছি যার প্রায় অর্ধেকটা ইতিমধ্যে বন্টন সম্পন্ন হয়েছে। এই করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমার ইউনিয়নের মানুষের মাঝে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যেও ত্রান সহায়তা পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেছি। শুধু তাই নয় আপনারা সবাই জানেন গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলে আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিকেরও বেশি লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। সেই সময় সরকারী সহায়তার পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই চেয়ারম্যান জানান, প্রচার বা প্রসারের জন্য আমি কাজ করি না, কাজ করি মানুষের জন্য, যে কোন পরিবেশ পরিস্থিতিতে আমি এই ইউনিয়নের মানুষের পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। তবে যারা পর্দার আড়ালে থেকে আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে বা করাচ্ছে তাদের পর্দার আড়ালেই থাকতে হবে। কারন এর আগেও তারা নানা রকম মিথ্যাচার করেছে তাদের মুখোশও উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই মিথ্যাচারের বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক মহোদয় ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানান তিনি।
তবে দুই তিনদিন ধরে স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধওে এলাকাবাসী জানাচ্ছেন বুঝেন না? সামনে নির্বাচন। ভোটের রাজনীতির খেলা হচ্ছে। কয়েকজন সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা নিয়েও প্রশ্ন করে বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতার নামে যা হচ্ছে তাতে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটা দূর্বল হচ্ছে। সমাজের দর্পণ আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে চলেছে। তবে এলাকাবাসী জানান, আড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অন্ততঃ কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নন। তিনি পকেটের টাকা মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেন। তার মত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এই ধরনের মিথ্যাচার করা ঠিক হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 13 =