ত্রাণের তালিকা ঘষামাজা করে ইউপি চেয়ারম্যান ধরা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২০ মে ২০২০, ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 48 বার
ত্রাণের তালিকা ঘষামাজা করে ইউপি চেয়ারম্যান ধরা

গরিবের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ উচ্চবিত্তদের দেয়া এবং ত্রাণ গ্রহণকারীর নামের তালিকায় ঘষামাজার অপরাধে ফেঁসে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন লিয়াকত।

ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের পর উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি চেয়ারম্যানের এ অপকর্মের সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ত্রাণ বিতরণের অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসনে এসেছে। তিনি বলেন, আমি বলেছি– বিষয়টি নথিতে উত্থাপনের জন্য। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কিন্তু হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকত এসব ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করেন।

ফলে এলাকার শত শত অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষ প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ত্রাণের তালিকায় রয়েছে চেয়ারম্যানের শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকপুত্র, সমন্ধির বউ, তৃতীয় স্ত্রীর বড় বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন। অনেকেই আবার একাধিকবার ত্রাণ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া মিরপুর বাজারের কয়েকজন বিত্তশালীসহ ১৮ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। এমনকি ত্রাণ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গায়েবি তালিকা করা হয়েছে। সেখানে বাবা ও স্বামীর নামেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও গরমিল। আবার অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও ত্রাণ না দিয়ে তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ত্রাণ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে।

তালিকায় রয়েছে ঘষামাজারও অভিযোগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

এতে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিনের পদত্যাগ চাই, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভেস্তে যেতে দেব না, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় চাল চোরের ঠাঁই নাই, চাল চোর ও চাল আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষ স্লোগান দেন।

এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ত্রাণের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার আমাদের হাতে না দিয়ে স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। অন্য ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তিসহ শতাধিক ভুয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করে ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খ্রিস্টফার হিমেল রিছিলকে আহ্বায়ক করে বাহুবল উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি করে। কমিটি তদন্তকাজ শেষ করে গত সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তুলে দেয়।

প্রতিবেদনটি হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়। জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাহুবলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) খ্রিস্টফার হিমেল রিছিল বলেন, ত্রাণ বিতরণে যা যা পাওয়া গেছে তাই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী কী সত্যতা পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তে কিছুই লুকানো হয়নি। সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর কবীর বলেন, তদন্তে ত্রাণ গ্রহণকারীর তালিকায় ঘষামাজা, গরিবের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ উচ্চবিত্তদের মধ্যে বিতরণ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 2 =


আরও পড়ুন