চট্টগ্রামে লে-অফ ৪৬ পোশাক কারখানা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২২ এপ্রিল ২০২০, ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 72 বার
চট্টগ্রামে লে-অফ ৪৬ পোশাক কারখানা

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের পোশাক খাত।

শিপমেন্ট না হওয়া, কার্যাদেশের অভাবসহ নানা কারণে চট্টগ্রামের দু’টি ইপিজেডের (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) ৪৬টি পোশাক কারখানা লে-অফ ঘোষণা করেছে।

ইতোমধ্যে লে-অফের আবেদন মঞ্জুর করেছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। আরও কিছু কারখানা লে-অফে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বেপজাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সিইপিজেডের কর্মকর্তারা জানান, যেসব পোশাক কারখানা লে-অফে যাবে তারা সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাইরে থাকবে। অর্থাৎ তারা প্রণোদনা পাবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে কারখানায় কাঁচামালের স্বল্পতা, তৈরি মালামাল জমে যাওয়া, শিপমেন্ট ও ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়া, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া, শ্রমিক কাজ দিতে না পারার অক্ষমতাসহ নানা কারণ দেখিয়ে সিইপিজেডের বেশ কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মেয়াদে (১৫, ২০, ৩০, ৪৫ দিন) কারখানা লে-অফ ঘোষণার আবেদন জানিয়েছে। একেকটি কারখানা একেক ধরনের সমস্যার কথা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছে।

চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেডে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে দুই শতাধিক কারখানা আছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী ইপিজেডে কারখানা আছে ৪১টি। এসব কারখানায় শ্রমিক কাজ করে ৭৬ হাজারের মতো। চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানার সংখ্যা ১৫৮টি এবং শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইপিজেডগুলোতে তৈরি পোশাক খাত, তাঁবু, জুতা ও ইলেকট্রনিক্স কারখানা মিলিয়ে মোট ৪৬টি কারখানা কর্তৃপক্ষ লে-অফের জন্য তাদের কাছে অনুমোদন চেয়েছে। কাজ না থাকা, বিদেশি ক্রেতাদের শিপমেন্ট বাতিল করা, কাজের আদেশের অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ লে-অফের আবেদন করছে।

আইনানুযায়ীই তারা আবেদন করেছে। সূত্র জানায়, শ্রম আইন অনুযায়ী, লে-অফ চলাকালে প্রথম ৪৫ দিনের ক্ষেত্রে পূর্ণকালীন শ্রমিকের মোট মূল মজুরি, মহার্ঘ্য ভাতার অর্ধেক দিতে হয় মালিককে। পরের ১৫ দিনের জন্য শ্রমিক পাবে ২৫ শতাংশ মূল বেতন এবং বাড়ি ভাড়া।

কারখানা লে-অফের বিষয়ে ট্রেড ইউনিয়ন চট্টগ্রামের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত উল্লাহ জাহিদ যুগান্তরকে বলেন, এ করুণ অবস্থায় লে-অফ ঘোষণা কাম্য নয়। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে লে-অফ শ্রমিকদের আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলে দেবে।’

সিইপিজেডের ব্যবস্থাপক আশিক মোহাম্মদ শাহাদত বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কিছু পোশাক কারখানা লে-অফের ঘোষণা দিয়ে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। সব আবেদন আমরা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে ৪৬টি পোশাক কারখানার লে-অফ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। আরও কিছু পাইপ লাইনে আছে।

অনেক কারখানার কর্তৃপক্ষ আমাদের টেলিফোনে বা প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। তাদের আবেদন পেলে প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেব। আবার কয়েকটি পোশাক কারখানা লে-অফের আবেদন করেও আবার লে-অফে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা নতুন করে কার্যাদেশ পেয়েছে।

বেপজার মহাব্যবস্থাপক খুরশিদ আলম বলেন, ‘সিইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডের বেশ কিছু কারাখানা লে-অফের জন্য আবেদন করেছিল। আমরা তা ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। কিছু কিছু আবেদন ইতোমধ্যে মঞ্জুরও হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি লে-অফ ঘোষণা করে তাহলে ওইসব প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের তহবিল থেকে ঋণ পাবে না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + 9 =