উড়িষ্যা থেকে ১৫৫ কিলোমিটার দূরে ‘আম্পান’

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২০ মে ২০২০, ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 57 বার
উড়িষ্যা থেকে ১৫৫ কিলোমিটার দূরে ‘আম্পান’

প্রবল বেগে ক্রমশই শক্তি বাড়িয়ে ভারতের উড়িষ্যার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে সুপার সাইক্লোন আম্পান।

ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, উড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে এখন ১৫৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণে অবস্থান করছে আম্পান। কাছাকাছি চলে আসায় ইতিমধ্যে ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে সেখানে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উড়িষ্যায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বইছে ভুবনেশ্বর, চাঁদবলী, বালাসোর, পুরী এবং গোপালপুরেও। পারাদ্বীপে এখন প্রতি ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে। বালাসোর এবং ভুবনেশ্বরে প্রতি ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে।

চাঁদবলী নামক এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার ও পুরী এবং গোপালপুরে যথাক্রমে প্রতি ঘণ্টায় ৩৯ এবং ৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত দিঘার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে আম্পান।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ‘সুপার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ থেকে আমপান এখন ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়র সাইক্লোনিক স্টর্ম’-এ পরিণত হয়েছে। এটি বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দিঘা থেকে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী কোনো অঞ্চলে আছড়ে পড়বে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগনাতে। প্রায় ১০ ফুটের মতো প্রবল জলোচ্ছ্বাসে এই তিন জেলার উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে।

আম্পানের তাণ্ডবে কলকাতা, হুগলি, হাওড়া এবং নদিয়াতেও প্রভাব পড়বে। কলকাতায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে। সেই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন বলছে, প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশ উপকূলের ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে।

যে কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর ‘মহাবিপদ সংকেত’ দেখাতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

তবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরকে আগের মতই ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর সংকেতের আওতায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 3 =